গাজীপুরে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে নিহত ৬, আহত ৯

বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে বিধ্বস্ত লেগুনা

গাজীপুরে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে ৬ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত নয় যাত্রী। শনিবার সকালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আউটপাড়া এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। নাওজোর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এআই) ইমরান হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

নিহতরা হলেন লেগুনা চালক গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের কৈলা গ্রামের মোতালেব মাতুব্বরের ছেলে সুজন (২০), যাত্রী নেত্রকোনার কলমাকান্দার রঘুরামপুর গ্রামের আব্দুল হাসিমের ছেলে আবুল হোসেন (৫০), শেরপুরের নালিতাবাড়ি থানার ভূরুঙ্গা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে উকিল মিয়া (৪৫), সুনামগঞ্জের সালনা থানার গোবিন্দপুর গ্রামের তুলসি দাসের ছেলে প্রাণনাথ দাস (৩৮), তার চাচাতো ভাই একই এলাকার ইন্দ্রজিৎ দাসের ছেলে বকুল চন্দ্র দাস (৩৫) ও জামালপুরের বকসিগঞ্জ থানার নিলইক্ষ্যা গ্রামের বাবুল মিয়ার স্ত্রী আমেনা বেগম (৪৫)।

আবেদনের প্রেক্ষিতে শনিবার বিকালে বিনা ময়নাতদন্তে লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তরিত হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।  

আহতরা হলেন, নূর মোহাম্মদ (৪০), বাবু মিয়া (৩১), রাজিব হোসেন (২৮), হাবিবুল্লাহ (৩৩), নাজমুল হক (২৫), আসাদ (২৫), আশিকুর ইসলাম (৪৫), বিলকিস (২৫) ও দুলাল (৪০)। তাদের মধ্যে আশিকুর ও দুলালকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, রাজিবকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতাল এবং আসাদকে তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। 

নাওজোর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এআই) ইমরান হোসেন ও স্থানীয়রা জানায়, সকাল পৌনে ৭টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা থেকে চান্দনা চৌরাস্তাগামী একটি লেগুনা যাত্রী নিয়ে আউটপাড়া এলাকার ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের সামনে পৌঁছালে বিপরীতগামী যাত্রীবাহী একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে লেগুনাটি দুমড়ে মুচড়ে যায়।  দুর্ঘটনায় এক নারী, লেগুনা চালকসহ ৬জন নিহত হয়। নিহতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। 

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় পরিবহণ শ্রমিক মো. নাজির উদ্দিন জানান, টাঙ্গাইলগামী মুমু পরিবহনের একটি বাস ঘটনাস্থলে মহাসড়কের পাশে দঁড়িয়ে যাত্রী তুলছিল। এসময় গাজীপুরগামী যাত্রীবাহী ওই লেগুনাটি সামনে থাকা অপর একটি বাসকে পাশ কাটাতে গিয়ে জনতা বাস সার্ভিসের মুমু পরিবহনের বাসটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটায়। এতে লেগুনার চালক ও যাত্রীসহ ৬ জন নিহত এবং বাসের চালক ও লেগুনার এক নারীসহ ৯ জন আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষের পর বাসটি

পরে পুলিশ ও এলাকাবাসী হতাহতদের উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক প্রণয় ভূষণ দাস বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এক নারীসহ ৬ জনকে মৃতাবস্থায় এবং ৯ জনকে আহতাবস্থায় এ হাসপাতালে আনা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আহতদের মধ্যে আশিকুর ও দুলালকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজিবকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতাল এবং আসাদকে তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতলে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

সালনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হোসেন সরকার জানান, বাসটি জব্দ করা হলেও তার চালক পালিয়ে গেছে। লেগুনাটি ছিল আনফিট ও মেয়াদোত্তীর্ণ, যা মাইক্রোবাস কেটে তৈরি করা হয়েছে।

/এসটি/এইচকে/