সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, অসম্পূর্ণ স্মৃতিস্তম্ভটির ওপরের দিকটি সবুজ কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। স্তম্ভের ওপর ঢালাইয়ের রড বেরিয়ে আছে। আশপাশে কাঠের টুকরা ও বাঁশ ফেলে রাখা হয়েছে।
মৌলভীবাজার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সূত্রে জানা গেছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে অবরুদ্ধ হয় শহর। ফলে চারদিকে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করতে থাকে। এর মধ্যে এলাকাবাসী ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ মৌলভীবাজার শহরের মনু সেতু এলাকায় পাকিস্তানি সেনাদের প্রতিরোধ করতে এগিয়ে আসেন। পাকিস্তানি বাহিনীর আধুনিক অস্ত্রের মুখে তাদের টিকে থাকা সম্ভব হয়নি। সেদিন পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে লুন্দুর মিয়া নামের ১২ বছরের এক শিশু নিহত হয়। পরে সেনারা পাশের একটি ইটখোলার সাতজন নিরীহ শ্রমিককে হত্যা করে। মনু সেতু এলাকা হয়ে ওঠে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনকেন্দ্র ও বধ্যভূমি।
মৌলভীবাজার জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা ইউনিট কমান্ডার জামাল উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অসম্পূর্ণ স্থাপনায় কাজ করতে চায় না মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। বছর দুয়েক আগে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ৬৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। এখন পর্যন্ত কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘পৌরসভার মেয়র আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ওই স্মৃতিস্তম্ভের কাজ সম্পূর্ণ করে দেওয়ার জন্য। এখানকার ইতিহাস অনেক বড়। আমাদের মৌলভীবাজার বাংলাদেশের প্রথম ব্রিজ অপারেশন হয় মৌলভীবাজার মনুনদী ব্রিজ। এই মনুনদী ব্রিজ ভাঙছে মুক্তিযোদ্ধারা। ২৮ মার্চ প্রথম প্রতিরোধযুদ্ধ করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। পাকহানাদার বাহিনীরা মনুনদীর নিচে ১১ জন হত্যা করে।’
জামাল উদ্দিন বলেন, ‘মৌলভীবাজার শতাধিক বধ্যভূমি রয়েছে। সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও ২/১টি ব্যক্তি উদ্যোগে বধ্যভূমি সংরক্ষণ করা হয়েছ।’
/এসএনএইচ/