বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি বন্ধ

বেনাপোল স্থলবন্দরবেনাপোলে ভারতীয় একটি ট্রাক আটকের প্রতিবাদে পেট্রাপোল-বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারতীয় বন্দর ব্যবহারকারীরা। এর ফলে আজ বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার পর থেকে এ পথে কোনও আমদানি-রফতানি হয়নি। সীমান্তের দুই পাশে আটকা পড়েছে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক। ওই ট্রাক বৈধভাবে ফিরিয়ে দিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেনাপোল চেকপোস্ট কার্গো শাখার একজন কর্মকর্তা।
জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই ভারতীয় ডব্লিউবি-৫৭-৬৪৮৪ নম্বরের একটি ট্রাক বেনাপোল বন্দরে পণ্য খালাস করে ভারতে ফিরে যাচ্ছিল। এ সময় ট্রাকটি চেকপোস্ট এলাকায় বড়আঁচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী স্নেহা খাতুন (৬) নামের এক শিশুকে চাপা দেয়। শিশুটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়। এ ঘটনায় এলাকার লোকজন ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসে। পরে পোর্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ট্রাকটি আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পরে নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ও আদালতের নির্দেশ নিয়ে ট্রাকটি ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ট্রাকটি ফেরত দেয় না। দীর্ঘদিনেও ট্রাকটি ফেরত না পেয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ক্ষোভে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে আমদানি-রফতানি বন্ধ করে দেয়। ওই সময়ের পর থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ পথে কোনও আমদানি-রফতানি হয়নি। এতে করে সীমান্তের দুই পাশে শত শত পণ্য বোঝাই ট্রাক আটকা পড়েছে।
ভারতের পেট্রাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ট্রাকটি বৈধ পথে কারপাশের মাধ্যমে পণ্য নিয়ে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেছিল। আদালতের মাধ্যমে নিহতের পরিবারের অনাপত্তি পেয়েছি আমরা। এরপর আমরা ট্রাকটি ফেরত নিতে বার বার কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে বলেছি। কিন্তু তারা এ ব্যাপারে কোনও সহযোগিতা করেননি। প্রায় পাঁচ মাস ধরে ট্রাকটি বেনাপোল পোর্ট থানার সামনে পড়ে আছে। গত ২ অক্টোবর বেনাপোল বন্দরে অগ্নিকাণ্ডে ট্রাকটির সামনের অংশ পুড়েও যায়। কারপাশের মাধ্যমেই ট্রাকটি ফিরত দিতে পারে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।’
বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি কামাল উদ্দিন শিমুল বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে বেনাপোল কাস্টমস কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি কারপাশের মাধ্যমে ট্রাকটি ফিরত দেওয়ার কথা বললেও চেকপোস্ট কার্গো শাখার কর্মকর্তারা তা মানছেন না।’
বেনাপোল চেকপোস্ট কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ট্রাকটি বৈধ কারপাশের মাধ্যমে পণ্য নিয়ে এসেছিল। পরে ট্রাকটি একটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। আদালতের নির্দেশে এখানকার এক ব্যক্তির জিম্মায় দেওয়া হয় সেটা। কিন্তু ভারতে যাওয়ার কোনও অনুমতির কথা তাতে নেই। এখন কারপাশও অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে। যাতে ট্রাকটি বৈধভাবে ভারতে ফেরত যেতে পারে সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

/টিআর/