ভোটের পরদিন শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালেই সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। সকাল পৌনে ১১টায় শহরের দেওভোগের পৈতৃক বাসা থেকে গাড়িতে চড়ে শহরের খানপুর কাজীপাড়া এলাকায় সাখাওয়াত হোসেন খানের বাসায় যান আইভী। সঙ্গে নিয়ে যান মিষ্টির প্যাকেটও। যদিও আগে থেকেই সাখাওয়াতের বাসায় তৈরি করা ছিল নাস্তা ও ফলমূল। সকাল ১১টা ১০ মিনিটে আইভী সাখাওয়াতের বাসা থেকে বের হয়ে আসেন।
সাখাওয়াতের বাসায় গেলে তিনি নিজেই আইভীকে রিসিভ করেন। ড্রয়িং রুমে প্রথমে তারা করমর্দন করে একে অপরের কুশল বিনিময় করেন এবং বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন।
প্রসঙ্গত নির্বাচনের শুরু থেকেই সাখাওয়াত ও আইভীর বক্তব্যে পাল্টাপাল্টি কোনও অভিযোগ না থাকলেও ভোটের কয়েকদিন আগে থেকে তাদের মধ্যে বিষোদগার হয়। একে অপরের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ তোলায় জমে উঠে বাকযুদ্ধ। বৃহস্পতিবার ভোট শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ দুই প্রার্থী বড় ধরনের কোনও অভিযোগ অবশ্য তোলার সুযোগ পাননি। যদিও ফলাফল শেষে সাখাওয়াত দাবি করেন সূক্ষ কারচুপি হয়েছে।
নির্বাচনে ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৯৩১ ভোটারের মধ্যে ২ লাখ ৯৬ হাজার ৩৬ ভোট পড়ে। প্রদত্ত ভোটের হার ৬২ দশমিক ৩৩ ভাগ। নির্বাচনে ১৭৪টি কেন্দ্রে সেলিনা হায়াৎ আইভী (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ) নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬১১ ভোট। সাখাওয়াত হোসেন খান (জাতীয়তবাদী দল বিএনপি) ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ০৪৪ ভোট।
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের ১৬ জানুয়ারি বিলুপ্ত পৌরসভা নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন আইভী। ওই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী নুরুল ইসলাম সরদার পরাজিত হলে তার বাসায়ও মিষ্টি ও ফুল নিয়ে গিয়েছিলেন আইভী। তবে ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত শামীম ওসমানকে হারালেও তার বাসায় যাননি আইভী।
আরও পড়ুন-
কাউন্সিলর পদে আ. লীগ ১৫ বিএনপি ৯টিতে জয়ী
/এফএস/