সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় সর্মথন পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক মিয়াজান আলী। তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রসুল, গাংনী উপজেলা সভাপতি সাইদুজ্জামান খোকন ও মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়া উদ্দিন বিশ্বাস। আওয়ামী লীগের সমর্থক আরও দুই জন নির্বাচনে প্রার্থী হলেও তাদের একজনের প্রার্থিতা স্থগিত ও একজনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।
এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় সমর্থন পাওয়া প্রার্থী মিয়াজানের সঙ্গে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের একাংশ। এছাড়াও মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন ও শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ইয়ারুল ইসলামও সমর্থন করছেন তাকে। অন্যদিকে সদর উপজেলার সভাপতি গোলাম রসুলের সঙ্গে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি জয়নাল আবেদীন, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আক্কাস আলীসহ জেলা যুবলীগের একাংশ। দলের অপর দুই প্রার্থী সাইদুজ্জামান খোকন ও জিয়া উদ্দিন বিশ্বাস। নিজ নিজ উপজেলায় একক প্রার্থী হওয়ার ফলে নির্বাচনে তাদের অবস্থাও অনেক শক্ত।
চতুর্মুখী এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে ভোট কেনাবেচার অভিযোগও উঠেছে। শোনা গেছে, একটি ভোটের জন্য একটি মোটর সাইকেল পর্যন্ত দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন একজন প্রার্থী। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে এক লাখ টাকার বিনিময়ে একটি ভোট রফা করার। এছাড়া এক প্রার্থীর কাছ থেকে প্রতিটি ভোটের জন্য নেওয়া নগদ ৫০ হাজার টাকা ভোটাররা ফিরিয়ে দিয়েছেন বলেও গুজব রয়েছে। তবে সব চেয়ারম্যান প্রার্থীই টাকার বিনিময়ে ভোট কেনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এর মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম রসুল সম্প্রতি জেলা শিশু একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে কারও নাম উল্লেখ না করে অভিযোগ করেন, এক প্রার্থী ভোট পেতে পালসার মোটর সাইকেলের চাবি দিয়েছেন ভোটারকে। ভোটে জিতলে দেওয়া হবে ওই মোটরসাইকেল। তিনি জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করেছেন বলেও জানান। গোলাম রসুল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সাবেক এমপি জয়নাল আবেদীন, শহরের সাধারণ সম্পাদক আক্কাস আলীসহ জেলা যুবলীগ ও তৃণমূল নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে আছে। ভোটারদের কাছে যাচ্ছি, তারা আমাকে গ্রহণ করছে।’
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মিয়াজান আলী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভোট কেনাবেচা হচ্ছে। এটা নির্বাচনি আচরণবিধির লঙ্ঘন।’ ভোট বেচাকেনা ঠেকাতে প্রশাসনের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পাঁচ বছর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। বিশেষ কাউকে অগ্রাধিকার না দিয়ে দলমতের বাইরে গিয়ে কাজ করেছি। তাই মানুষ আমাকেই ভোট দেবে।’
এদিকে, মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়া উদ্দীন বিশ্বাস জানান, অর্থ ও মোটর সাইকেল লেনদেনের কথা শুনেছেন তিনি। তিনি এবং সাইদুজ্জামান খোকন দু’জনই নিজ নিজ বিজয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করে ভোট কেনাবেচা ঠেকাতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা পরিমল সিংহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নির্বাচনে ভোট কেনাবেচা ঠেকানে প্রশাসন কাজ করছে। প্রমাণ ছাড়া আমরা কোনও পদক্ষেপ নিতে পারি না।’ এখনও পর্যন্ত লিখিত কোনও অভিযোগ পাননি বলে জানান পরিমল।
/টিআর/