দিয়াজের আত্মহত্যায় প্ররোচণা দিয়েছিল চারজন: চবি ছাত্রলীগ সভাপতি

দিয়াজ ইরফান চৌধুরী
দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনাকে আবারও আত্মহত্যা বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রলীগ সভাপতি আলমগীর টিপু। তবে দিয়াজের আত্মহত্যার জন্য চবি ছাত্রলীগের জন্য চার নেতাকে দায়ী করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এবং সংবাদ সম্মেলনের শেষে বাংলা ট্রিবিউনের প্রশ্নের জবাবে এসব অভিযোগ করেছেন চবি ছাত্রলীগ শাখার সভাপতি।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে বাংলা ট্রিবিউনকে টিপু বলেন, ‘আমি আবারও বলছি, এটা হত্যা নয়, স্রেফ আত্মহত্যা। তবে এর জন্য দিয়াজকে প্ররোচনা দেওয়া হয়েছে। যারা এই প্ররোচনা দিয়েছে তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা উচিত।’
দিয়াজকে আত্মহত্যার জন্য চবি ছাত্রলীগের চার নেতাকে দায়ী করেছেন টিপু। এই চার নেতা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মামুন, মোহাম্মদ নাজিম, সৌমেন পালিত ও পাঠাগার সম্পাদক আবু বকর তোহা। টিপু এদের গ্রেফতারের দাবিও করেছেন।
এর আগে সংবাদ সম্মেলনে নিজের ও চবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজনের স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আলমগীর টিপু। এ সময় তিনি বলেন, ‘দিয়াজ এক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকার চেক নিয়েছিল বলে দিয়াজের বোনের স্বামী ছরওয়ার ও দিয়াজের মামা রাশেদ বিন আমিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন। ওই চেকটি নিয়েই দিয়াজের সঙ্গে চবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মামুন ও অন্যদের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। মামুন নানাভাবে দিয়াজকে হুমকি দিয়ে আসছিল।’
টিপু আরও বলেন, ‘২৯ অক্টোবর ছাত্রলীগ কর্মী তপুকে কুপিয়ে আহত করে চবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মামুন, মোহাম্মদ নাজিম, সৌমেন পালিত, যুগ্ম সম্পাদক সুমন কান্তি, পাঠাগার সম্পাদক আবু বকর তোহা, আইন সম্পাদক আবু সাইদ মারজানসহ ১০-১৫ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী। গুরুতর অবস্থায় তপুকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’
ওই সময় তপুর ওপর হামলার ঘটনায় দিয়াজ নিজের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন উল্লেখ করে টিপু বলেন, দিয়াজ ওই সময় বারবার বলেছেন, ‘তপুর ওপর হামলার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। জুনিয়রদের ওপর থেকে আমার নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে।’ ১১ নভেম্বর রাত ৭টা ৫২ মিনিটে দিয়াজ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন, ‘আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক শিক্ষার্থী। চবির সঙ্গে আমার সম্পর্ক এটাই। চবির রাজনৈতিক কোনও বিষয়ে আমার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ না করার অনুরোধ রইলো, করলে ব্ল্যাকলিস্টে ঢুকবেন। আমায় আমার মতো করে ভালো থাকতে দেন, সবাই ভালো থাকুন।’
চবি ছাত্রলীগের সভাপতি টিপু সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এই স্ট্যাটাসের পরই মামুন, নাজিম নানাভাবে জুনিয়রদের খেপিয়ে তোলে দিয়াজের বিরুদ্ধে। দিয়াজ বেঈমানি করেছে বলে অভিযোগ করে তারা। অভিযোগ করে বলে, ‘দিয়াজ ২৫ লাখ টাকার চেক নিয়েছে আমাদের বিক্রি করে।’ চবি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে দিয়াজ প্রতারণা করেছে বলে জুনিয়রদের উস্কে দেয় মামুন, নাজিম।’
টিপু জানান, ওই সময় দিয়াজের গ্রুপে ফাটল ধরে। তার কিছু অনুসারী চলে যায় মামুন ও নাজিমের পক্ষে। তপুর ওপর হামলার পর থেকে জুনিয়ররা নিজেদের ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত হওয়ার পেছনে দিয়াজের ‘প্রতারণা’কে দায়ী করে। ওই সময় ২৫ লাখ টাকার চেকটির ভাগ দিতেও দিয়াজকে জুনিয়ররা চাপ দিতে থাকে। এসব কারণে দিয়াজ যে ধরনের মানসিক চাপের মধ্যে ছিল তা সহ্য করতে না পেরেই আত্মহত্যা করেছে বলে মন্তব্য করেন টিপু।
চবি ছাত্রলীগ শাখার সভাপতি টিপু ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চবি ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মনসুর আলম, সহ-সভাপতি সাজিদুল কবির, আব্দুল মালেক, সাখাওয়াত হোসেন রায়হান, আহসান হাবীব রুপু, নাজমুল করিম নিপুন, যুগ্ম সম্পাদক কৌশিক বিশ্বাস প্রমুখ।

/বিটি/টিআর/