রসরাজের অপেক্ষায় স্বজনরা

রসরাজ দাসআদালতে তদন্ত প্রতিবেদন পৌঁছানোর পরও শুনানিতে জামিন হয়নি রসরাজ দাসের। এ নিয়ে ভীষণ হতাশ তার পরিবারের সদস্যরা। রসরাজের বৃদ্ধ মা-বাবা ছেলের ঘরে ফেরার আশায় দিন গুনছেন।
রসরাজের বড়ভাই দয়াময় দাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গতকাল মঙ্গলবার আদালতের বারান্দায় ঘুরেছি। ভেবেছিলাম ভাইয়ের মুক্তির ব্যাপারে ভালো খবর পাবো। কিন্তু উকিল জানালেন, পুলিশের তদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা হয়েছে। জামিন হতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে।  
রসরাজের আটক সম্পর্কে দয়াময় বলেন, ঘটনার দিন আমি আর আমার ভাই রসরাজ বিলে মাছ ধরছিলাম। কোথা থেকে কী হলো কিছু বুঝতে পারলাম না। ঘটনার দিন (২৯  অক্টোবর) হঠাৎ একদল লোক এসে আমার ভাইকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে মারধর করে পুলিশের কাছে দেয়। ফেসবুকে সে নাকি কী দিয়েছে। এরপর আমাদের এলাকার বাড়িঘর এবং মন্দির ভাঙচুর  করা হয়। আমি মন থেকে বিশ্বাস করি, আমার ভাই (রসরাজ)  কোনও দিন এই ধরনের কাজ করতে পারে না। ফেসবুক কী সে তা ভালো করে জানেও না।
মা-বাবার দুরবস্থার কথা জানিয়ে রসরাজের বড়ভাই আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে আমার বাবা জগন্নাথ দাস ও মা নমিতা দাসের মনে অজানা আশঙ্কা ভর করেছে। তারা খাওয়া-দাওয়া বলতে গেলে ছেড়েই দিয়েছেন। তারা প্রায়ই হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন, আমাকে বারবার জিজ্ঞেস করেন, রসরাজ কবে আসবে। আমাদের এলাকার মুসলমানরাও এখন বুঝতে পারছে, রসরাজ এ কাজ করেনি।

রসরাজের বোনের স্বামী নেপাল দাস জানান, গতকাল (মঙ্গলবার) আদালতে গিয়েছিলাম। আমরা তো আইন-কানুন বুঝি না, উকিল স্যার জানালেন, ১৬ জানুয়ারি আবার দিন ধার্য হয়েছে। সেদিন জামিন হতে পারে।

রসরাজের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাসির মিয়া বলেন, পিবিআই-এর (পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন) পক্ষ থেকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরেনসিক জমা দিয়েছেন। গতকাল মামলার শুনানি হয়েছে। ১৬ জানুয়ারি রসরাজের উপস্থিতিতে  বিচারক ইসমাইল হোসেনের আদালতে পরবর্তী শুনানি হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ অক্টোবর ধর্ম অবমাননাকর ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার অভিযোগে  নাসিরনগরের হরিপুর গ্রামের রসরাজকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই ছবি পোস্টকে কেন্দ্র করে পরদিন নাসিরনগর সদরে মন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। 

/এআর/এএআর/