শ্বশুর বাড়ির এলাকাতেই জঙ্গি হয়ে ওঠে সাদ্দাম!

সাদ্দামরাজধানীর মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত সাদ্দাম হোসেন তার নিজ এলাকায় নয়, বিয়ের পর শ্বশুর বাড়ির এলাকায় গিয়ে জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সঙ্গে জড়িত হয়ে থাকতে পারে। ওই এলাকাতে গিয়েই হয়তো জঙ্গি হয়েছে সাদ্দাম। পরিবারের সদস্যরা ও এলাকাবাসী এমন কথাই বলছেন বাংলা ট্রিবিউনকে।
সাদ্দাম হোসেনের বাড়ি কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চর বিদ্যানন্দ এলাকার আনন্দবাজার গ্রামে। স্থানীয়রা বলছেন, কেবল পরিবারের সদস্যদের কাছেই নয়, এলাকার সবার কাছেই নম্র-ভদ্র হিসেবেই পরিচিত ছিল সাদ্দাম। মাদ্রাসার ছাত্র হলেও তার আচরণে সন্দেহজনক কিছু দেখেননি তারা।
সাদ্দামের পরিবার বলছে, ২০১৪ সালে পরিবারকে না জানিয়েই গাইবান্ধার ‍সুন্দরগঞ্জে বিয়ে করে সে। এরপর থেকে সে বাড়িতে আসা প্রায় বন্ধ করে দেয় সাদ্দাম। ওই এলাকাতেই সে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সঙ্গে যুক্ত হয়ে থাকতে পারে।
সাদ্দামের বড় ভাই মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সাদ্দাম বাড়িতে থেকেই দাখিল ও আলিম পাস করেছে। ২০১৩-২০১৪ সেশনে ও (সাদ্দাম) লালমনিরহাট সরকারি কলেজে ইতিহাস বিভাগে স্নাতক (সম্মান) কোর্সে ভর্তি হয়। ওর আচরণ কিংবা কথাবার্তায় সন্দেহজনক কিছুই ছিল না। এমনকি যাদের সঙ্গে ও মিশত তারাও সবাই ভালো ছেলে হিসেবেই পরিচিত।’
সাদ্দামের বড় ভাই আরও বলেন, ‘২০১৪ সালে কাউকে না জানিয়ে সাদ্দাম বিয়ে করে। এরপর বাড়িতে আসাও প্রায় বন্ধই করে দেয়। এর আগ পর্যন্ত ওকে নিয়ে কারও কোনও সন্দেহ ছিল না। ও কেমন করে, কার সংস্পর্শে এসে জঙ্গি হয়েছে তা আমাদের জানা নেই। তবে এটা নিশ্চিত, আমাদের পরিবার কিংবা গ্রাম থেকে ও জঙ্গি হয়নি।’
তবে কি সাদ্দাম গাইবান্ধায় বিয়ে করার পর জঙ্গি দলে ভিড়েছে? এ প্রশ্নের জবাবে মিজানুর বলেন, ‘হতেও পারে। আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি, গাইবান্ধায় জামায়াত-শিবির ও জঙ্গিদের কার্যক্রম বেশি। ওখানেই হয়তো কারও মাধ্যমে সাদ্দাম জঙ্গি হয়ে গেছে।’
বড় ভাইয়ের মতো সাদ্দামের গ্রামের প্রতিবেশীরাও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে সাদ্দাম জঙ্গি হতে পারে। সবার কাছে কাছে ভদ্র, মার্জিত ও বিনয়ী হিসেবে পরিচিত সাদ্দাম কেমন করে জঙ্গিবাদের অন্ধকার পথে পা বাড়িয়েছিল, সেই প্রশ্ন করছেন প্রতিবেশী তাজুল ইসলাম, মহির উদ্দিন, সুলতানা, রাজিয়া, মেহেরুনরা। তারা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বাড়ির বাইরে পড়তে গিয়ে কারও প্ররোচনায় হয়তো জঙ্গিদের সঙ্গে যোগ দিয়ে থাকতে পারে সাদ্দাম।
সাদ্দামের বাড়ি আনন্দবাজার গ্রামের ৯নং ওয়ার্ড কমিশনার আনোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এলাকাতে নয়, বরং গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে গিয়ে সাদ্দাম জঙ্গি হয়ে উঠতে পারে। কারণ সেখানে সে বিয়ে করেছে এবং বিয়ের পর এলাকায় তেমন একটা আসত না।’
এলাকাবাসীরা ধারণা করছেন, জঙ্গি হওয়ার পর দলীয় কারণে সাদ্দাম গাইবান্ধায় বিয়ে করে থাকতে পারে। অথবা বিয়ের পরও সে জেএমবির সঙ্গে যুক্ত হয়ে থাকতে পারে। তাদের গ্রামে কোনও ধরনের জঙ্গি তৎপরতা নেই বলে দাবি করেন তারা।
জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার মো.মেহেদুল করিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলসহ জেলার সব উপজেলায় জেলা পুলিশের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে। কুড়িগ্রামে জঙ্গি প্রশিক্ষণ দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। সাদ্দাম কুড়িগ্রামে নয়, কুড়িগ্রামের বাইরে কোথাও জেএমবিতে ভিড়েব থাকতে পারে।’

আরও পড়ুন-
‘গুলিতেই মৃত্যু মারজান ও সাদ্দামের’

‘সরকারক কন লাশটা দেউক, বাবাক নিয়া মাটি দেই’

 

/টিআর/