নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ আহতাবস্থায় গত এক সপ্তাহ ধরে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডের বিছানায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোকসানা বেগম সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শান্তিরাম গ্রামের সুজা মিয়ার স্ত্রী। তাদের সংসারে চারবছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে।
এ ঘটনায় রোকসানার বাবা আবদুল খালেক বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে সুজা মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।
আবদুল খালেক লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, ২০১০ সালের ২২ জানুয়ারি রোকসানা বেগমের সঙ্গে শান্তিরাম গ্রামের পল্লী চিকিৎসক ওয়াহেদ আলীর ছেলে সুজা মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় সুজা মিয়াকে পাঁচভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ নগদ তিন লাখ টাকা দেওয়া হয়। এরপর সুজা মিয়া রোকসানার কাছে আরও যৌতুকের টাকা দাবী করেন। যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে প্রায়ই মারধর করেন তিনি।
গত ১ জানুয়ারি পিতার বাড়ি থেকে দুই লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য রোকসানাকে চাপ দেন সুজা মিয়া। কিন্তু রোকসানা তাতে অস্বীকৃতি জানালে সাজু মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে মারধর করেন। এসময় রোকসানার কাছে একটি সাদা স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। এক পর্যায়ে সুজা মিয়া, শ্বশুর ওয়াহেদ আলী, শাশুড়ি আনোয়ারা বেগম,দেবর আবদুর রউফ ও সুরুজ মিয়া ধারালো অস্ত্র দিয়ে রোকসানাকে আঘাত করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সাজু ও তার পরিবারের লোকজনের মারপিট ও অস্ত্রের আঘাতে রোকসানা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এরপর তাকে আটকে রেখে গোপনে চিকিৎসা চালান সাজু মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন। পরে রোকসানার বাবা আবদুল খালেক খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা রোকসানা বেগম বলেন, ‘দু’লাখ টাকা যৌতুক চেয়ে আমাকে প্রায়ই মারধর করতো স্বামী। বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে পারিনি বলে ঘটনার দিন আমাকে মারপিট ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।’ তিনি জানান, ‘চিকিৎসা চললেও হাত ও শরীরের যন্ত্রণা কমছে না।’
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. শাহিনুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, ‘মারপিটের কারণে রোকসানার ডান হাতে ক্ষত হয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ’
অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিয়ার রহমান জানান,‘অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এছাড়া অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ’
অভিযোগের বিষয়ে সুজা মিয়ার সঙ্গে তার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মোবাইল বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।
এপিএইচ/