ভারতে বাংলাদেশি পাট পণ্য রফতানি কমেছে

বেনাপোল স্থলবন্দরভারত সরকার বাংলাদেশি পাট পণ্যের ওপর উচ্চ হারে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে। যার বিরূপ প্রভাব পড়েছে বেনাপোল বন্দর দিয়ে পাট পণ্য রফতানিতে। সোমবার সকাল থেকে এ বন্দর দিয়ে মাত্র ৭ ট্রাক পাট পণ্য রফতানি হয়েছে। এছাড়া আরও ৩৮টি ট্রাক পাট পণ্য নিয়ে বন্দরে আটকা আছে।

বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা আবদুস সামাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন দেড়শ ট্রাক পাট পণ্য ভারতে রফতানি করা হতো। তবে ভারত সরকার বাংলাদেশি পাট পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করায় রফতানি কমেছে।’

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য মতে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে ৯১ কোটি ৯৫ লাখ ডলারের পাট ও পাট পণ্য রফতানি হযেছে। যার ২০ শতাংশ রফতানি হয়েছে ভারতে।

পাট পণ্য রফতানিকারক প্রতিনিধি তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘ভারতের খোলা বাজারে বাংলাদেশি পাট পণ্যে চাহিদা অনেক। ফলে বাংলাদেশি উৎপাদকরা পাট রফতানিতে ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা পায়। কিন্তু এতে ভারতীয় পাট পণ্য মার খাচ্ছে বলে অভিযোগ করে দেশটির অ্যান্টি-ডাম্পিং অ্যান্ড অ্যালাইড ডিউটিজ (ডিজিএডি) অধিদফতার। পাশাপাশি বাংলাদেশি পাট পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের সুপারিশ করে। পরে ভারতের রাজস্ব বিভাগ বাংলাদেশি পাট পণ্যে ওপর এন্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন থেকে বাংলাদেশি কোনও প্রতিষ্ঠান ভারতে পাটের সুতা, চট ও বস্তা রফতানি করতে চাইলে প্রতি মেট্রিক টনে ১৯ থেকে ৩৫২ ডলার শুল্ক দিতে হবে। ফলে বাংলাদেশের পাট জাতীয় পণ্যের রফতানি কমে যাচ্ছে।’

বেনাপোল বন্দর কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, ‘বাংলাদেশের পাট ও পাট পণ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার ভারত। সেখানে নতুন শুল্ক আরোপ করায় ভারতের বাজারে প্রতিযোগিতায় টেকা সম্ভব নয়।’

/এসএনএইচ/
আরও পড়ুন: 
‘বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে ২৫ বছর আগেই বাংলাদেশ উন্নত দেশ হতো’
নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব জামায়াতের