বাবাকে হত্যার ঘটনায় দুই ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে মামলা

নিহত আবদুল শেখরাজশাহী মহানগরীর বহরমপুরে বাবাকে হত্যার অভিযোগে দুই ছেলে ও তাদের স্ত্রীদের নামে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত আবদুল শেখের মেজ ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক সুরুজ বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আবু বক্কর ও রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমান উল্লাহ।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মামলার আসামিরা হলেন— আবদুল শেখের ছোট ছেলে শরিফুল ইসলাম শরিফ ও তার স্ত্রী হাবিবা আক্তার লাইজু এবং বড় ছেলে আবু তাহের সুজন ও তার স্ত্রী আক্তারুন।
ওসি আমান উল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ হত্যা মামলায় শরিফ ও তার স্ত্রী লাইজুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার পর সুজন ও তার স্ত্রী আক্তারুন পালিয়ে যায়। তবে তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’
এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগরীর রাজপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হায়দার আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুরে শরিফুল ইসলাম ওরফে শরিফ ও তার স্ত্রী হাবিবা আক্তার লাইজুকে রাজশাহীর মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। তবে আবেদনের শুনানি হয়নি। শুনানির দিনও ঠিক হয়নি। আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠিয়েছেন।’
এদিকে, আবদুল শেখের ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার (৯ জানুয়ারি) বিকালে পরিবারের সদস্যদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। লাশের ময়নাতদন্ত করেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের (রামেক) ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এনামুল হক। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। ময়নাতদন্তের পরেই কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিবেদন এলে বিষয়টি নিয়ে পরিষ্কার হওয়া যাবে।’
রাজপাড়া থানার ওসি আমান উল্লাহ বলেন, ‘আবদুল শেখ কিভাবে মারা গেছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আবদুল শেখের স্ত্রী দুই জন। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি আছিয়া বেগমকে বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীর পক্ষে তিন ছেলে ও দ্বিতীয় স্ত্রীর এক মেয়ে। তিন ছেলের মধ্যে শুধু শরিফ বাড়িতেই থাকেন। বাকিরা থাকেন ভাড়া বাসায়। সোমবার সকালে গেটের তালা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে সুজন। পরে শরিফ ও সুজন মিলে আবদুল শেখকে মারপিট করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে অবদুল শেখকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মেজ ছেলে ও মামলার বাদী আবু বাক্কর সিদ্দিক সুরুজ (৩৫) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার বড় ও ছোট ভাই ও তাদের স্ত্রীরা বাবাকে হত্যা করেছে। আমি বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছি।’
নিহত আবদুল শেখের স্ত্রী আছিয়া বলেন, ‘দুইটি ব্যাংকে আমার স্বামীর নামে ৪০ লাখ টাকা রয়েছে। সেই টাকাসহ জমিজমা লিখে নেওয়ার জন্য বেশ কিছুদিন থেকে শরিফ ও সুজন চাপ দিয়ে আসছিল।’
আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী রোজি সিদ্দিকী বলেন, ‘বাবাকে হত্যা করার পর সুজন বাক্সের তালা ভেঙে নগদ পাঁচ লাখ টাকা ও ৩৫ লাখ টাকার চেক, জমি-জমার দলিলপত্র ও দুই ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে।’

/টিআর/