শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয় মাহমুদকে মারপিটের ঘটনায় তার চাচা এরশাদ আলী বাদী হয়ে আজ (শুক্রবার) সকালে থানায় মামলা করেছেন। মামলায় শাহজাদপুর পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হালিমুল হক মিরু, তার ছোট ভাই হাসিবুল ইসলাম পিন্টু ও মিন্টুসহ ১১ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৫/৭ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।’
এর মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত আসামী মেয়রের ছোট ভাই হাসিবুল ইসলাম পিন্টু ও মিন্টুকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মেয়রের ব্যবহৃত শটগানটি জব্দ করা হয়েছে বলে জানান রেজাউল হক।
এদিকে, ছাত্রলীগ নেতা বিজয়কে মারপিট ও মেয়রের শটগানের গুলিতে সাংবাদিক আহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে আজ (শুক্রবার) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করে স্থানীয় ছাত্রলীগ। কর্মসূচিতে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ কাজলসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) উপজেলায় অর্ধদিবস হরতাল পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, শাহজাদপুরের দিলরুবা বাস টার্মিনাল থেকে উপজেলা সদর পর্যন্ত রাস্তার কাজ নিয়ে বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কালিবাড়ি এলাকায় শাহজাদপুর পৌর মেয়র মিরুর ছোট ভাই হাসিবুল ইসলাম পিন্টু পৌর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ভিপি রহিমের শ্যালক ছাত্রনেতা বিজয়কে বেধড়ক মারধর করে। এতে তার হাত-পা ভেঙে যায়।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দলের কর্মী-সমর্থক ও তার মহল্লা কান্দাপাড়ার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে দিলরুবা বাস টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে। এ অবস্থায় অবরোধকারীদের একটি অংশ ক্ষিপ্ত হয়ে মনিরামপুর এলাকায় অবস্থিত পৌর মেয়রের বাড়ি ঘিরে ইট-পাটকেল মারতে থাকে। এসময় মেয়র তার নিজের শটগান দিয়ে গুলি করলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সমকালের প্রতিনিধি শিমুলের মাথায় ও মুখে গুলি লাগে। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। তাকে চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় আনার পথে মৃত্যু হয় শিমুলের।
আরও পড়ুন-
বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে তাদের রেজিস্ট্রেশন বাতিল হবে: নৌমন্ত্রী
সুপ্রিম কোর্ট থেকে মূর্তি সরাতে বায়তুল মোকাররমের সামনে বিক্ষোভ
/টিআর/