নতুন নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব না নেওয়া উচিত: রিজভী

বক্তব্য রাখছেন রুহুল কবির রিজভী

বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন আমার মনে হয় নতুন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সদস্যদের দায়িত্ব না নিয়ে পদত্যাগ করা উচিত। কারণ, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র চায় না এবং বর্তমান নির্বাচন কমিশনের দ্বারা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব নয়।

বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইল শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জেলা ছাত্রদল আয়োজিত শহীদ জগলুর ৩০তম স্মরণসভায় প্রধান অতিথির দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এসময় তিনি বলেন, নবনিযুক্ত সিইসি হচ্ছেন আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠভাজন, মুদ্রার অপর পিঠ। আর যারা (আ.লীগ নেতারা) নির্বাচন ও গণতন্ত্রকে কবরে পাঠিয়েছেন তাদের দ্বারা নিরপেক্ষ ইসি আশা করা সম্ভব নয়।

রিজভী বলেন, নির্বাচন কমিশনের যিনি প্রধান হয়েছেন তার সঙ্গে সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি জনতার মঞ্চের লোক ছিলেন। যারা শৃংঙ্খলা ভঙ্গ করে তাদের পক্ষে নিরপেক্ষভাবে কাজ করা কঠিন। সার্চ কমিটির সুপারিশ গ্রহণ না করে বেছে বেছে সরকার ও দলের অনুগত লোকদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে।

রিজভী দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ও শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারকে জীবনদান করেছিলেন শহীদ জিয়াউর রহমান। অথচ আজ একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে জিয়া পরিবারকে ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে আওয়ামী লীগ।

তিনি আরও বলেন, সরকারের যদি গণতান্ত্রিক বোধ থাকতো তাহলে তারা নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের ব্যবস্থা নিত। সংবাদপত্র ও বাক স্বাধীনতা খর্ব করে গণতন্ত্রকে কবরে পাঠিয়েছে এই আওয়ামী লীগ।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি খন্দকার রাশেদুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক সরফত আলী সপু, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) আব্দুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবলু ও  জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ সামসুল আলম তোফা, সহসভাপতি মো. ছাইদুল হক ছাদু, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল প্রমুখ।

আর আগে  বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ শহীদ জগলুর কবর জিয়ারত করেন ও দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন। 

উল্লেখ্য ১৯৮৭ সালে এরশাদ সরকারের আমলে  বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রামের ডাকা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আবু রায়হান জগলু নিহত হন।

 /টিএন/