ইজতেমার আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ছয় লাখ বর্গফুট এলাকায় আয়োজন করা হয়েছে ইজতেমা। ১৬টি দেশের ১২০ জন অতিথি অংশ নিচ্ছেন এতে। তিন দিনের এই আয়োজনে দেশি-বিদেশি ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেমরা ঈমান, আকিদা, ইসলামের দ্বীনের দাওয়াত, ইসলাম ধর্ম ও আখিরাত সম্পর্কে দিক-নির্দেশনামূলক মূল্যবান বয়ান দেবেন। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মুসল্লিদের সুবিধার্থে এসব বয়ান কয়েকটি ভাষায় তর্জমা করা হবে।
খুলনা ইজতেমা সমন্বয়কারী কাজী মো. তারেক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সুদান, যুক্তরাজ্য, থাইল্যান্ড, চীন, কাতার, মালয়েশিয়া, কানাডা, মরক্কোসহ ১৬টি দেশের বিদেশি মেহমান ইজতেমায় উপস্থিত থেকে বয়ান করবেন।’
মো. তারেক জানান, ইজতেমায় অসুস্থদের সেবার জন্য ঢাকা থেকে আগত একটি মেডিক্যাল টিমের পাশাপাশি স্থানীয় একাধিক মেডিক্যাল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করবে। এছাড়া বিশেষ ব্যবস্থায় মুসল্লিদের খাবারের জন্য কাঁচাবাজার রাখা হয়ছে ইজতেমা ময়দানের পাশেই।
র্যা ব-৬-এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইজতেমাএলাকায় নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। র্যা ব এবং পুলিশের একাধিক টিম এজতেমা মাঠের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে। বাইনোকুলারে পর্যবেক্ষণ ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করা হবে।’
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) রাশিদা বেগম বলেন, ‘ইজতেমা এলাকার চারপাশে অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিদের নজরদারি জন্য ওয়াচ টাওয়ার ও ৫৪টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ইজতেমার পাশেই বিশ্বরোড হওয়ায় এ রাস্তায় ভারি যানবাহন চলাচল সীমিত করা হয়েছে।’
খুলনা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘খুলনায় তাবলিগ জামাতের ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ ইজতেমাকে টঙ্গি ইজতেমার মতো রূপ দিতে সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করছে। সফলভাবে ইজতেমা সম্পন্ন করার জন্য পানি, বিদ্যুৎ, জনস্বাস্থ্য, ওয়াসা, ফায়ার সার্ভিস, খুলনা সিটি করপোরেশন, পিডাব্লিউডি, পল্লী বিদ্যুৎ পিডিবিসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।’ বিদেশি মেহমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য ডিজিএফআই, এনএসআই, সিটিএসবিসহ সব গোয়েন্দা সংস্থা তৎপর রয়েছে বলে জানান তিনি।
খুলনা জেলা ইজতেমার ইনতেজামিয়া সদস্য মো. হাবিবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘খুলনা জেলায় কয়েক বছর ধরে স্থানীয়ভাবে ইজতেমা আয়োজন করা হচ্ছে। এ বছর খুলনার জিরো পয়েন্ট থেকে রূপসা সেতুর দিকে যেতে ডান পাশে রূপসী রূপসা নামক স্থানে ইজতেমার আয়োজন করা হয়েছে। আশা করছি, সফলভাবে ইজতেমা সম্পন্ন হবে।’
আরও পড়ুন-
সুনামগঞ্জে তিন দিনের ইজতেমা শুরু
কুড়িগ্রামে ধরলার ভাঙনে দিশেহারা দুই হাজার পরিবার
/টিআর/