রুয়েট সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের চলমান ধর্মঘটে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষাবর্ষের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ছিল। এদিন সকালে একটি সভা করেছে শিক্ষক সমিতি। তবে এতে ধর্মঘট প্রত্যাহারের কোনও সিদ্ধান্ত আসেনি। বরং আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এছাড়া ওই সভায় অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল মফিজকে প্রধান হিসেবে পাঁচ সদস্যের একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করে শিক্ষক সমিতি। শিক্ষকদের আনা অভিযোগের ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করবে এই কমিটি। এই কমিটি থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী কর্মসূচির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সমিতির সভায় একটি মনিটরিং কমিটি গঠনের খবর নিশ্চিত করে রুয়েট শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল আলীম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের দাবির দৃশ্যমান কোনও অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আজকের সভায়ও ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।’ যোগ করে তিনি বলেন, ‘মনিটরিং কমিটি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। তাদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে পুনরায় সভা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ধর্মঘট পালন করে আসছেন শিক্ষকরা। শিক্ষকদের অভিযোগ, ‘৩৩ ক্রেডিট’ বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে শিক্ষকদের অবরুদ্ধসহ বিভিন্নভাবে হেনস্থা করা হয়েছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষকদের নিয়ে বাজে মন্তব্যও করা হয়। ওই আন্দোলনে শিক্ষকদের জিম্মি করে দাবি আদায়ে উস্কানিদাতা ও অসৌজন্যমূলক আচরণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে ধর্মঘট ডাকেন শিক্ষকরা।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘৩৩ ক্রেডিট’ বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উস্কানিদাতা ও শিক্ষকদের সঙ্গে ‘অসৌজন্যমূলক’ আচরণের অভিযোগ ওঠায় তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ জানুয়ারি থেকে ১৪ ও ১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ‘৩৩ ক্রেডিট’ পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন নামে। সরকারি (শুক্রবার ও অন্যান্য) এবং সাপ্তাহিক (বৃহস্পতিবার) ছুটির বাহিরে সবদিনই তারা এ কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন। ওই সময় এ দুই শিক্ষাবর্ষের কোনও ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। টানা আন্দোলনের পর ৫ ফেব্রুয়ারি কর্তৃপক্ষ দাবি মেনে নিলে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে।
এরপর শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে জিম্মি করে দাবি আদায় ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ এনে ৫ ফেব্রুয়ারি রাতেই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষক সমিতি। এর পরদিন থেকে তারা এই কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ও শুক্রবার সরকারি ছুটির পর শনিবার আবারও তাদের ধর্মঘট অব্যাহত ছিল।
/জেএইচ/