রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপু হত্যা মামলার কোনও অগ্রগতি নেই। চারমাসেরও উদঘাটন হয়নি হত্যার কারণ। জমা পড়েনি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন। তবে খুব দ্রুতই মামলার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হলে বলে দাবি করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাহবুব আলম ।
মাহবুব আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে মামলার তদন্ত কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। সিআইডি যদি আমার সহযোগিতা নেয় তাহলে খুব দ্রুত হত্যা রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে।
এর আগে গত ২০ জানুয়ারি মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু এক মাসেও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঠিক হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর সিআইডির এসপি নাজমুল বলেন, এখন পর্যন্ত মামলা আমার কাছে আসেনি।
তবে মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা মাহবুব আলম বলেন, আমি হেড কোয়ার্টারে খোঁজ নিয়েছি, এই মামলার তদন্তের জন্য আসমাউল নামে এক পরিদর্শককে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখনও হয়তো সেই নির্দেশনামা সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছায়নি। নির্দেশ আসলেই আমি সিআইডির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবো।
জানা যায়, ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আব্দুল লতিফ হলের ড্রেন থেকে লিপুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধারের দিন মহানগর পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম, পিবিআই ও র্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। লিপুকে হত্যা করা হয়েছিল বলে ওই সময় পুলিশ ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ওইদিন বিকেলে লিপুর চাচা মো. বশীর বাদী হয়ে নগরীর মতিহার থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
লাশ উদ্ধারের দিন লিপুর রুমমেট মনিরুল ইসলামকে আটক করা হলেও তিনদিন পর হত্যা মামলায় মনিরুলকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। কিন্তু ৮ নভেম্বর জজকোর্ট থেকে মনিরুল জামিন পায়। জামিনের আগে মনিরুলকে চারদিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ডে মনিরুলের দেওয়া তথ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন সম্ভব বলে তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা অশোক চৌহান দাবি করেছিলেন। এরপর মামলার তদন্তভার পান নতুন তদন্ত কর্মকর্তা মাহবুব হাসান।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কার্যালয় ঘেরাও