সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণের জন্য লড়ছেন নিহত মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে

আদালতসিলেটে প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণের মামলা লড়ে যাচ্ছে ওই দুর্ঘটনায় নিহত জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ইফতেখার হোসেন শামীমের পরিবার। ১৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা ওই মামলায় বাদী পক্ষের আইনজীবীর দায়িত্ব পালন করছেন নিহত মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে অ্যাডভেকেট শেহজিন ওয়াজিহা হোসেন। তিনি আশা করছেন, এ মামলায় ন্যয়বিচার পাবেন তার পরিবার।
২০১২ সালের একটি সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলাটি লড়ে যাচ্ছেন শেহজিন ওয়াজিহা। ওই বছরের ১১ মে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানী নগরের তেরমাইলে গ্রিনলাইন পরিবহনের সঙ্গে একটি পাথরবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত হন তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ইফতেখার হোসেন শামীমসহ আট জন।
এ দুর্ঘটনায় ১৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বাদী হয়ে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেন নিহত মুক্তিযোদ্ধা শামীমের স্ত্রী নাজনীন হোসেন, মেয়ে শেহজিন ওয়াজিহা হোসেন, ছেলে ইনতেখাব হোসেন ও ইশরাত হোসেন। বাদী পক্ষের হয়ে মামলাটি লড়ছেন শেহজিন ওয়াজিহা। তিনি মামলায় সাক্ষ্যও দিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলায় গ্রিনলাইন পরিবহনের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিলেট আঞ্চলিক প্রধানসহ আট জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, ২০১২ সালের ১১ মে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানী নগরের তেরমাইলে গ্রিনলাইন পরিবহনের সাথে একটি পাথরবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে ইফতেখার হোসেন শামীমসহ আট জন নিহত হন। এ দুর্ঘটনার কারণে নিহতের পরিবারের সদস্যদের ১৩ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার শারিরিক, মানসিক ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।
চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালনার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে জানিয়ে নিহত মুক্তিযোদ্ধা শামীমের মেয়ে অ্যাডভোকেট শেহজিন ওয়াজিহা হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওই দুর্ঘটনায় ১৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে গ্রিনলাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দু’টি মামলা করা হয়। ওই মামলায় এখন সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। আমি নিজেও সাক্ষ্য দিয়েছি। আমাদের পক্ষ থেকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আদালতে আরও তিন জনের নাম দিয়েছি। এ মাসের শেষের দিকে মামলার শুনানি রয়েছে। আদালতের সমন পেলে এই তিন জন সাক্ষ্য দেবেন।’

আরও পড়ুন-

‘এ ধর্মঘট আমারে কী দিলো?’

যে কারণে অস্ত্রের তথ্য দিচ্ছেন না কাদের খাঁন

/টিআর/