খাগড়াছড়িতে কলেজছাত্রী হত্যায় আটক ব্যক্তি কারাগারে

খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ির আরামবাগে কলেজ ছাত্রী ইতি চাকমা হত্যার ঘটনায় আটক অমর কান্তি চাকমাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত ১ মার্চ বিকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. সুজাউদ্দৌলা আটক ব্যক্তিকে অতিরিক্ত সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রোকেয়া আক্তারের আদালতে আনার পর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এ সময় আসামীর পক্ষে কোনও আইনজীবী ছিলেন না।
খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু তারেক মোহাম্মদ আবদুল হান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রথমে শ্বাসরোধ করে ও পরে গলা কেটে হত্যা করা হয় ইতি চাকমাকে। দিঘীনালা উপজেলার শনখোলা এলাকার মৃত অমরেন্দ্রীয় চাকমার এই কনিষ্ঠ মেয়ে ছিলেন খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের এইচএসসি মানবিক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আরও জানান, ইতি চাকমার বড় বোন জোনাকী চাকমা দিঘীনালা উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করেন। সেই সূত্রে বেশিরভাগ সময় তিনি দিঘীনালায় বাবার বাড়িতে থাকেন। তবে সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার তিনি খাগড়াছড়ি সদরের ভাড়া বাসায় আসতেন। আর ইতি চাকমা পড়াশোনার সুবিধার্থে দুলাভাই অটল চাকমার সঙ্গে খাগড়াছড়ির আরামবাগের বাসায় থাকতেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার আগের রাতে অটল চাকমার বন্ধু অমর কান্তি চাকমা ওরফে গণতোষ চাকমা আরামবাগের বাসায় রাতে অবস্থান করেন এবং পরদিন সকালে বেরিয়ে বিকেলে ফিরে আসেন। এরপর বেরিয়ে যান অটল চাকমা। রাত প্রায় ৯টার দিকে ফিরে দরজা খোলা পেয়ে ঘরে ঢুকে ইতি চাকমার রক্তাক্ত লাশ দেখে চিৎকার শুরু করেন তিনি। এতে আশপাশের ভাড়াটিয়ারা ছুটে এসে পুলিশকে খবর দেন।

তখন অমর কান্তি চাকমা বাসায় ছিলেন না। পরে তাকে ফোন দিয়ে ডেকে আটক করে পুলিশ। তিনি পার্বত্য চট্রগ্রামের একটি আঞ্চলিক সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। গ্রেফতার এড়াতে গণতোষ ছদ্মনামে অটল চাকমার ভাড়াবাড়িতে অবস্থান করতেন তিনি।

ইতি চাকমা হত্যার ঘটনায় জোনাকী চাকমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ইতির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ-মিছিল অব্যাহত রেখেছেন খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। ১ ও ২ মার্চ বিক্ষোভ-মিছিল করেন তারা।

/এমএ/জেএইচ/