এমপি লিটন হত্যা: সুবল কারাগারে, জড়িত আরও কয়েকজন চিহ্নিত

 

 

নিহত এমপি লিটন

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মনজুরুল ইসলাম লিটনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার কসাই সুবল চন্দ্র সরকারকে (৫০) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

সুবল এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত সাবেক এমপি (অব.) ডা. কর্নেল আবদুল কাদের খাঁনের অন্যতম সহযোগী। বুধবার বিকালে রংপুরের সেবা হাসপাতাল নামের একটি ক্লিনিক থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে পিত্তথলিতে পাথরজনিত কারণে অপারেশনের প্রয়োজনে ওই ক্লিনিকে চিকিৎসা নেয় সুবল। বুধবার বিকেলে তাকে ক্লিনিক থেকে ছাড়পত্র দিলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে গাইবান্ধা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আনা হয়।

সুবল চন্দ্র সরকার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনমথ গ্রামের গৃধর চন্দ্রের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কসাই।

এদিকে, গ্রেফতারকৃত চার কিলার এবং কাদের খাঁনের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তদন্ত করে পুলিশ লিটন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনকে চিহ্নিত করতে পেরেছে বলে জানিয়েছে।। এসব অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ ।

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে কাদের খাঁনের পিএস জোহা, রেজাউল করীম রেজা ও হাবিবুর রহমান অন্যতম। রেজাউল করীম বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি ও হাবিবুর কাদের খাঁনের ভাগ্নি জামাই। তিনি লক্ষীপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক। 

গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) রবিউল ইসলাম জানান, সুবলকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সুবল চন্দ্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, এমপি লিটনের কিলিং মিশনের অন্যতম খুনি মেহেদী হাসানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এই সুবল চন্দ্র  কাদের খানের সোর্স হিসেবে কাজ করতো এবং লিটনের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য প্রদান করতো। পিত্তথলির পাথর অপারেশনের জন্য ১৪ ফেব্রুয়ারি সুবল চন্দ্র রংপুরের ক্লিনিকে ভর্তি হন। পুলিশ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই ক্লিনিকে ১৯ ফেব্রুয়ারি তাকে নজরবন্দি করে রাখে। ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তাকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

 

/টিএন/