প্রতারণার দায়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

জয়পুরহাটভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যের নামে নিবন্ধিত সিমের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে এক কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশির কাছ থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মামলায় জয়পুরহাটে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাহিদ হোসেনকে (২৪) গত ১ মার্চ গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ। ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে সে।
জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতার ছবি ব্যবহার করে মির্জা আব্বাস নামে একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে রাহিদ যোগাযোগ করে কানাডা প্রবাসী আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে। ফেসবুকে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। মির্জা আব্বাসকে নিজের দলের নেতা মনে করে অসহায় মানুষকে সহায়তা করার জন্য তিন কিস্তিতে তিন লাখ ২০ হাজার টাকা পাঠান প্রবাসী আজাদ।
চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি ইসলামী ব্যাংক জয়পুরহাট শাখা থেকে ১ লাখ টাকা তোলে রাহিদ। পরবর্তীতে ১৯ ও ২২ জানুয়ারি এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি অগ্রণী ব্যাংক জয়পুরহাট শাখা থেকে বাকি দুই লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় রাহিদ।
এ নিয়ে সন্দেহ হলে চাচাত ভাই কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের নিউটাউনের বাসিন্দা কামরুল হাসানকে জানান কানাডা প্রবাসী আজাদ। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে প্রতারকের ঠিকানা খুঁজে বের করেন কামরুল। তাকে আসামি করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জয়পুরহাট সদর থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে একটি মামলা করেন তিনি।
রাহিদকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রাথমিকভাবে সে সবকিছু স্বীকার করেছে বলে পুলিশের একটি সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছে। বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) জয়পুরহাটের অতিরিক্ত মূখ্য বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ ইকবাল বাহারের আদালতে স্বেচ্ছায় নিজেকে জড়িয়ে রাহিদ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

জয়পুরহাট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান,এই মামলার ৩ লাখ ২০ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন সময়ে এমন প্রতারণার মাধ্যমে আরও কয়েকজনের কাছ থেকে ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে রাহিদ।

রাহিদ হোসেনের গ্রামের বাড়ি জেলার আক্কেলপুর পৌর সদরের টিএন্ড পাড়ায়। জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম সোলায়মান আলী মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের জানান, সে জেলা ছাত্রলীগের আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিল।

/জেএইচ/