বগুড়ায় তিনদিন ধরে পড়ে আছে ‘জঙ্গি’ আমিজুলের লাশ

bogra

বগুড়ার শেরপুরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত নব্য জেএমবির সামরিক শাখার উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডার আমিজুল ইসলাম ওরফে আল-আমিন ওরফে রনির লাশ তিন দিন পার হলেও কেউ গ্রহণ করতে আসেননি। এখনও তার মরদেহ বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের মর্গে পড়ে রয়েছে। বুধবার গভীর রাতে নিহত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে আমিজুলের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

শেরপুর থানার ওসি খান মো. এরফান ও অন্য কর্মকর্তারা জানান, রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার বুজরুক রাজারামপুর গ্রামের জনৈক দুরুল হকের ছেলে আমিজুল আগে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। সম্প্রতি সে নব্য জেএমবিতে যোগদান করে। ওই গ্রামে পালক বাবা বাবা আতাউর রহমানের বাড়িতে সে থাকতো। সেখানে জেএমবি সদস্যের গোপন বৈঠক ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। দক্ষতার কারণে তাকে জেএমবির সামরিক শাখার উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সে শেরপুরের মহিপুর জুয়ানপুর কুটিরভিটা গ্রামে গ্রেনেড বিস্ফোরণ মামলার সন্দেহভাজন আসামি ছিল। বগুড়া ডিবি ও শেরপুর থানা পুলিশের একটি দল গোপনে খবর পেয়ে গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ির বুজরুক রাজারামপুর গ্রামে গিয়ে আমিজুলকে আটক করে। এসময় সে বগুড়া ডিবি পুলিশের কনস্টেবল আবদুস সালাম ও ইসমাইল হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে বগুড়ায় নিয়ে আসে।

এরপর তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গত বুধবার গভীর রাতে অস্ত্র উদ্ধারে বের হয় পুলিশ । রাত ৩টার দিকে শেরপুরের জামনগর এলাকায় গেলে সঙ্গীরা তাকে ছিনিয়ে নিতে গুলিবর্ষণ শুরু করে। এসময় পুলিশও পাল্টা গুলি করলে আমিজুল পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন সে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। সেখানে ৩ রাউন্ড গুলিভর্তি একটি বিদেশি পিস্তল পাওয়া গেছে।

বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল ক্যাম্পাসে স্থাপিত ছিলিমপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ টিএসআই শাহ্ আলম জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে জঙ্গি আমিজুলের লাশের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। শনিবার বিকাল পর্যন্ত তার কোনও স্বজন লাশ নিতে আসেনি। লাশ মর্গে রয়েছে। কেউ নিতে না এলে লাশ দাফনের জন্য আঞ্জুমান-ই-মফিদুল ইসলামকে দেওয়া হবে।

/টিএন/