এমপি আনার হত্যাচেষ্টা মামলার ৩নং আসামি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানায় অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার হওয়া আজিজুল হক আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। সোমবার (৬ মার্চ) বিকালে আজিজুল এই জবানবন্দি দিয়েছেন বলে বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইমরান আলম ।
ইমরান আলম বলেন, ‘সোমবার ভোরে আজিজুলকে গ্রেফতারের পর দুপুরে আদালতে হাজির করা হয়। বিকালে আদালতের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল আলম তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করেন।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইমরান আলম জানান, এমপি আনার হত্যাচেষ্টার দায় স্বীকার করে ওই ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন আসামি আজিজুল। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৫ লাখ টাকার চুক্তিতে গত বছরের ১ নভেম্বর দিবাগত রাতে এমপি আনারকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ওই রাতে এমপি আনার ৭নং রায়গ্রাম ইউনিয়নে নির্বাচনপরবর্তী ঘরোয়া সভা করে সেখানেই থেকে যান। এসময় তার পিএস আব্দুর রউফসহ পাঁচ জন তিনটি মোটরসাইকেলে চড়ে কালীগঞ্জ ফিরছিলেন।
ওই মোটরসাইকেলে এমপি আনার অবস্থান করছে— এমন তথ্যে পেয়ে আগে থেকেই খামারমুন্দিয়া গাজেম আলী দাখিল মাদ্রাসার সামনে ওঁত পেতে থাকেন আজিজুল, কাওছার আলীসহ অন্যান্য আসামিরা। মোটরসাইকেল তিনটি সেখানে পৌঁছালে তারা গুলি চালান এবং বোমা বিস্ফোরণ ঘটান। এসময় ধরা পড়েন নিয়ামতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ।
সাঈদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসের কর্মচারী (সার্ভেয়ার সহকারী) কওছার আলীকে। পরে একে একে গ্রেফতার হন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও মালিয়াট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান খান, আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ওহিদুজ্জামান অদু। সর্বশেষ সোমবার (৬ মার্চ) ভোরে গ্রেফতার হন মামলার ৩নং আসামি আজিজুল হক।
এ ঘটনায় এমপি আনারের পিএস আব্দুর রউফ বাদী হয়ে ২ নভেম্বর কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও তিন জনসহ মোট আট জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ এ মামলায় এখন পর্যন্ত পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে।
আরও পড়ুন-
১০ হাজার টাকার বিনিময়ে মুফতি হান্নানকে ছিনিয়ে নিতে ককটেল নিক্ষেপ!