নারায়ণগঞ্জে চুরির অভিযোগে মাদ্রাসা ছাত্রকে পিটিয়ে আহত

আহত মাদ্রাসা ছাত্র আবু শহীদ

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় টাকা চুরির অপবাদে এক মাদ্রাসা ছাত্রকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত ওই ছাত্রকে স্থানীয় এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) ঘটনা জানাজানি হলে অভিযুক্ত শিক্ষক গা ঢাকা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৭ মার্চ) দুপুরে ঘটনাটি ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন।

নির্যাতনের শিকার ছাত্রের নাম হাফেজ আবু শহীদ (১৮)। তিনি মাহমুদপুর ইউনিয়নের শালমদী ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র ও গহরদী এলাকার জসীমউদ্দিনের ছেলে। ওই মাদ্রাসার শিক্ষক রমজান আলী শহীদকে পিটিয়ে আহত করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শহীদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মঙ্গলবার (৭ মার্চ) মাদ্রাসা ছাত্র রিফাত ৭শ টাকা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তোলে। রিফাত রমজান হুজুরকে বিষয়টি জানালে তিনি আমাকে ডেকে পাঠান। পরে মাদ্রাসার আরও দুই ছাত্র রাসেল ও আ. রহমানকে সঙ্গে নিয়ে মাদ্রাসার একটি রুমে আমাকে আটকে রেখে রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।

শহীদের অবস্থা বেশি খারাপ হয়ে পড়লে রমজান আলী ও তার দুই সহযোগী ছাত্র তাকে রেখে পালিয়ে যান। শহীদের কান্নার শব্দ পেয়ে মাদ্রাসার অন্য ছাত্ররা ওই রুমের দরজা খুলে শহীদকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠায়। পরে শহীদের শারীরিক অবস্থার কোনও উন্নতি না হলে বুধবার রাতে তাকে আড়াইহাজার সদরের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শহীদ বলেন, ‘আমি চুরি করিনি। এরপরও আমাকে মাটিতে ফেলে পেটানো হয়েছে। আমি নড়াচড়া করতে পারছি না। আমি এর বিচার চাই।’

ওই ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন রমজান আলী। গা ঢাকা দেওয়ার আগেই তিনি শহীদকে মারধরের ঘটনা স্বীকার করে বলেন, ‘চুরির অভিযোগ শুনে মাথা ঠিক ছিল না। সে কারণে শহীদকে ১৫টি বেত্রাঘাত করেছি। আমার অপরাধ হয়ে গেছে।’

ওসি সাখাওয়াত হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভুক্তভোগী ছাত্র বা তার পরিবার কোনও অভিযোগ করেনি। তবে পুলিশ ওই শিক্ষককে আটকের চেষ্টা করছে।’

শালমদী ইসলাময়িা হাফিজিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বিষয়টি শোভনীয় নয়। তবে তিনি এ সংবাদ প্রকাশ না করার জন্যও অনুরোধ করেন এ প্রতিবেদককে।

/এমএ/টিআর/