গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে বরগুনার সদর, আমতলী ও তালতলী উপজেলার কমপক্ষে ৪ হাজার হেক্টর জমির তরমুজ নষ্টের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে ঋণ নিয়ে তরমুজ চাষ করা কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
জেলার কৃষি বিভাগ বলছে, বুধবার থেকে রবিবার পর্যন্ত থেমে থেমে ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে তরমুজ গাছ পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তরমুজ ক্ষেতে পানি জমে যাওয়ায় প্রায় ৩০ কোটি টাকার তরমুজ নষ্ট হতে পারে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সদরের এমবালিয়াতলী ইউনিয়নের বানাই এলাকার কৃষক-কৃষানীরা ক্ষেতে বালতি দিয়ে ও মেশিন লাগিয়ে সেচ দিয়ে পানি সরানোর চেষ্ঠা করছেন।
বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খামারবাড়ি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর জেলায় ৪ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর আমতলীর বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং বাকী তরমুজ সদর ও তালতলী উপজেলায় চাষ হয়েছে। পৌষ ও মাঘ মাসে রোপণ করা তরমুজ গাছে বর্তমানে ফুল ও ফল আসতে শুরু করেছিলো। এ অবস্থায় ভারী বর্ষণ হওয়ায় প্রায় ৪ হাজার হেক্টর ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে।
চাষী রফিক মিয়া বলেন, ‘অন্যের জমি তিন মাস চুক্তিতে লিজ নিয়ে তরমুজ চাষ করেছি। এবছর লাভের আশায় বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণও এনেছি। বৃষ্টি এখন সব কেড়ে নিল।
তিনি আরও জানান, সাড়ে ৩ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তরমুজ চাষ করেছিলেন। এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খামার বাড়ির উপ-পরিচালক সাইনুর আজম খান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘এক হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করতে খরচ হয় প্রায় ৭৫ হাজার টাকা। ৪ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষে কৃষকদের খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা।
/এমএ/