প্রসূতির আর্তনাদেও ঘুম ভাঙেনি সেবিকাদের, ১৪ কিলোমিটার দূর থেকে ধাত্রী এনে প্রসব

nonameবাগেরহাট সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগে এক প্রসূতি মায়ের প্রসবকালীন সময়ে কর্তব্যরত সেবিকাদের বারবার ডেকে ঘুম থেকে তোলা সম্ভব হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে ১৪ কিলোমিটার দূর থেকে ধাত্রী এনে সন্তান প্রসবের ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, বাগেরহাট সদর উপজেলার উৎকূল গ্রামের হাফিজুর রহমানের স্ত্রী পারভিন বেগম ২৮ ফেব্রুয়ারি তার কন্যা রুপা বেগমকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করেন। ২ মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ডেলিভারি করার জন্য অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। তবে নিম্ন রক্তচাপের কারণে অস্ত্রোপচার করা থেকে বিরত থাকেন চিকিৎসকরা। গাইনি বিভাগের চিকিৎসকের পরামর্শে তার শরীরে রক্ত দিয়ে শনিবার (৪ মার্চ) অপারেশন করা হবে বলে জানানো হয়।

শুক্রবার রাত ১২টার ১২টার দিকে রুপা বেগমের প্রসব বেদনা শুরু হলে পারভিন বেগম কর্তব্যরত সেবিকাদের কাছে যান। কিন্তু অনেক ডাকাডাকির পরও ঘুম ভাঙেনি সেবিকাদের! বিষয়টি মোবাইলে ওই প্রসূতির আত্মীয় বাগেরহাটে কর্মরত একজন সংবাদকর্মীকে জানালে তিনিও হাসপাতালে গিয়ে সেবিকাদের ঘুমে পান। ওই সময় ১০ মিনিটেরও বেশি ডাকাডাকির পর কক্ষের ভেতরে থাকা একজন নার্স ওই কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা আরেকজন আয়াকে দরজা বন্ধ করে ঘুমানোর নির্দেশ দেন। আয়া চোখ খুললে ওই সংবাদকর্মীকে দেখেন। এ সময় ওই সংবাদকর্মী তার কাছে রোগীর অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপারা একটু আগে এসেছেন, তারা কিছু জানেন না।’ তখন রোগীটিকে দেখার অনুরোধ করে ওই সংবাদকর্মী হাসপাতাল থেকে চলে আসেন।

এরপর প্রসূতির মা নিরুপায় হয়ে জামাতা জামাল হোসেনকে মোবাইলে বিষয়টি জানান। জামাল রাত পৌনে দুইটার দিকে একজন ধাত্রীকে এনে রাত ৩টার দিকে ওই প্রসূতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রসবের ব্যবস্থা করান।

রুপা বেগমের মা পারভিন বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মেয়ের নিরাপদ প্রসবের জন্য সদর হাসপাতালে গিয়েছিলাম। মেয়ের বিপদের সময় নার্সদের বারবার ডেকেছি। কিন্তু তাদের ব্যবহার দেখে আমার চোখ দিয়ে শুধু পানি পড়েছে। অবশেষে আমি জামাইকে বিষয়টি জানালে, তিনি একজন ধাত্রী এনে আমাদের বিপদমুক্ত করেছেন।’

এ বিষয়ে বাগেরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. মোশারেফ হোসেন জানান, বুধবার দুপুরে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির রিপোর্টের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এএ/এমপি/