প্রেমতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে শক্তিশালী গ্রেনেড ও বিস্ফোরক উদ্ধার

 

চট্টগ্রামচট্টগ্রামে জঙ্গি আস্তানায় ‘অপারেশন অ্যাসাল্ট-১৬’ পরিচালিত হওয়ার দুইদিন পর প্রেমতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে শক্তিশালী গ্রেনেড ও বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার প্রেমতলার ‘ছায়ানীড়’ নামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১৩টি শক্তিশালী গ্রেনেড, ৫০ কেজি অ্যাসিড এবং দুইশ লিটার হাইড্রোপারঅক্সাইড উদ্ধার করে পুলিশ।

অপারেশন অ্যাসাল্ট-১৬ নামের ওই অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) একজন নারী সদস্যসহ চার জঙ্গি নিহত হয়। পরে আরও এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয় ওই আস্তানা থেকে। শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিহত জঙ্গিদের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রেমতলার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ পাঁচটি কনটেইনার থেকে শক্তিশালী গ্রেনেড ও বিপুল পরিমান বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অভিযানে নিহত চার জঙ্গি ও এক শিশুর লাশ চমেক হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তবে তাদের বিষয়ে আমরা বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছি। যদি জঙ্গিদের আত্মীয়-স্বজন লাশ নিতে না আসে তাহলে আমরা পরবর্তীতে আঞ্জুমান মফিদুলের কাছে লাশ হস্তান্তর করবো।’

শুক্রবার সন্ধ্যায় চমেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ড. এএমএন ফকরুজ্জাহান জঙ্গিদের লাশ ময়নাতদন্ত করেন। ময়নাতদন্ত শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘এক নারীসহ চার জঙ্গি ও এক শিশুর লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। এ সময় আমি তাদের শরীর থেকে ডিএনএ-এর নমুনা সংগ্রহ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বোমা বিস্ফোরণে আঘাত পেয়ে সব জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। তাদের শরীর থেকে বোমার স্প্লিন্টার উদ্ধার করা হয়েছে, তবে কোনও গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়নি। আমি রবিবার অথবা সোমবার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পুলিশের কাছে জমা দেবো।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রেমতলার ফ্ল্যাট থেকে যে শক্তিশালী গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে তার প্রতিটির ওজন দুই থেকে তিন কেজি। যা জঙ্গিদের শয়ন কক্ষের ম্যাট্রেসের মধ্যে লুকানো ছিলো। আমরা গ্রেনেডগুলো নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জঙ্গি আস্তানায় বিস্ফোরকের মজুদ দেখে মনে হয়েছে সেখানে দুই থেকে তিনজন বোমা বিশেষজ্ঞ থাকতো।’

প্রসঙ্গত, গত বুধবার সন্ধ্যার পর সীতাকুণ্ডের ‘সাধনকুটির’ বাড়ি থেকে জসিম ও আরজিনাকে আটক করে পুলিশ। উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র। আরজিনার গায়ে তখন আত্মঘাতী হামলার ভেস্ট ছিল। পরে সীতাকুণ্ডের প্রেমতলায় ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সোয়াত টিমের নেতৃত্বে শুরু হয় ‘অপারেশন অ্যাসল্ট সিক্সটিন’। এতে নব্য জেএমবির এক নারীসহ তিন পুরুষ জঙ্গি নিহত হয়। সেখান থেকে পরে এক শিশুর মৃতদেহও উদ্ধার করা হয়। সেখানেও প্রচুর বিস্ফোরক দ্রব্য পাওয়া গেছে।

/এসএনএইচ/