উচ্চ আদালতে রায় বহাল রাখায় খুশি আনোয়ার চৌধুরীর স্বজনরা

আনোয়ার চৌধুরী

বাংলাদেশে সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত আনোয়ার চৌধুরীর ওপর হামলা মামলার রায় উচ্চ আদালত বহাল রাখায় খুশি হয়েছেন জগন্নাথপুরবাসী ও আনোয়ার চৌধুরীর স্বজনেরা। জগন্নাথপুর উপজেলার ২নং পাটলী ইউনিয়নের প্রভাকরপুর চৌধুরীবাড়ির বাসিন্দা  আনোয়ার চৌধুরীর চাচাতো ভাই শাহ রুমি চৌধুরী বলেন, আনোয়ার চৌধুরী বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে নুতন ভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তার ওপর এভাবে জঙ্গিরা গ্রেনেড হামলা করে দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করেছে। আদালতের রায়ে আমরা খুশি, তবে আর যেন কেউ এভাবে কারও ওপর জঙ্গি হামলা করতে না পারে সেজন্য তিনি সরকারকে সজাগ দৃষ্টি রাখার দাবি জানান।

আনোয়ার চৌধুরীর নাতি মো. রুমেন চৌধুরী বলেন, দাদা ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হওয়ার পরও সাদামাটা জীবন যাপন করেছেন, তার কোনও শত্রু ছিল না। তারপরও জঙ্গিরা তাকে টার্গেট করে গ্রেনেড হামলা করলো। আজ প্রায় একযুগ পর এর বিচার হয়েছে। এখন দায়ীদের শাস্তি দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানাই।

আনোয়ার চৌধুরীর চাচাতো বোন মোছাম্মৎ মমতা চৌধুরী বলেন, আনোয়ার চৌধুরীর শৈশব কেটেছে প্রভাকরপুর গ্রামে। এ গ্রামের সরকারি প্রভাকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনি কিছুদিন লেখাপড়া করেছেন। জীবনে কারও কোনও ক্ষতি করেননি তিনি। তার মতো মাটির মানুষকে বোমা হামলা করে জঙ্গিরা মেরে ফেলতে চেয়েছিল, যা মোটেও কাম্য নয়। 

অপর চাচাতো ভাই এমরান চৌধুরী বলেন, জঙ্গিদের এ মিশন সফল হলে ভীষণ চাপে পড়তো বাংলাদেশ। যা দেশের জন্য ভালো সংবাদ হতো না।  

পাটলি ইউনিয়নের প্রভাকরপুর গ্রামের ইউপি সদস্য মো. ছায়েদুর রহমান ছায়েদ বলেন, জঙ্গিরা দেশ ও জাতির শত্রু। এদেরকে সমূলে উৎপাটন করতে হবে। আনোয়ার চৌধুরীকে হত্যা করে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি করতে চেয়েছিল জঙ্গি গোষ্ঠী।

জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র হাজি আব্দুল মনাফ বলেন, আনোয়ার চৌধুরী জগন্নাথপুরের কৃতি সন্তান। তার ওপর যারা গ্রেনেড হামলা করেছিল তাদের শাস্তি দ্রুত কার্যকর হওয়া উচিৎ।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারে গিয়ে  ফেরার পথে ফটকের কাছে গ্রেনেড হামলায় ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন। এ ঘটনায় করা মামলায় ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিলেটের দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান, জঙ্গি শরিফ শাহেদুল ও দেলোয়ারকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন। আর আজ মুফতি হান্নানের রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।

/টিএন/

আরও পড়ুন: মুফতি হান্নানের ফাঁসি বহাল