সাংবাদিক শিমুল হত্যাকাণ্ড: ২১৭ জনের বিরুদ্ধে মেয়র মিরুর স্ত্রীর মামলা

আব্দুল হাকিম শিমুলসিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি বিগত পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুর রহিম ও শাহজাদপুর পৌরসভার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মেয়র কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন সহ ২১৭ জনের বিরুদ্ধে শাহজাদপুর আমলী আদালতে মঙ্গলবার একটি মামলা হয়েছে। অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলাটি দায়ের করেন সাংবাদিক শিমুল হত্যাকাণ্ডেরর প্রধান আসামি ও জেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা হালিমুল হক মিরুর স্ত্রী লুৎফুননেছা পিয়ারী। আইনজীবী সাবেক পিপি অ্যাড, রফিক সরকার এই মামলা দায়ের করেন।

আমলী আদালতের মুখ্য বিচারিক হাকিম হাসিবুল হক মামলাটি দুপুরে আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে শাহজাদপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের পেশকার আপেল মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘গত পৌর নির্বাচনে পরাজিত আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুর রহিম দীর্ঘদিন থেকে মেয়র মিরুর বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিসন্ধি করছিলেন ও কুৎসা রটিয়ে আসছিলেন। তারই অংশ হিসেবে গত ২ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টায় আব্দুর রহিমের নির্দেশে তারই ভাড়াটে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পৌর এলাকায় মেয়র মিরুর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। ওই হামলায় সাংবাদিক শিমুল, সাহেব আলী, জহির কালু ও মানিকসহ পাঁচ জন গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ শিমুল পরদিন মারা যান। বাকিরা এখনও সিরাজগঞ্জ ও ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’ ওই দিনের ঘটনায় আব্দুর রহিম, কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি শেখ কাজলসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মিরুর স্ত্রী বাদী হয়ে আইনজীবী দিয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।

এদিকে, মামলার ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে শাহজাদপুর ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা শাহজাদপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। মামলার বিষয়ে আসামি আব্দুর রহিম বলেন, ‘গত ২ ফেব্রুয়ারির ঘটনার দিন আমি নিজেই শাহজাদপুরে ছিলাম না। বিষয়টি পুলিশ বাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের অনেকেই অবগত আছেন। আর ওই ঘটনার দুই মাস পর মেয়র মিরুর স্ত্রীর মামলা দায়েরের বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়।’

মামলার বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি খাজা মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘শুনেছি আদালতে মিরুর স্ত্রী একটি মামলা করেছেন। কিন্তু কপি এখনও হাতে পৌঁছেনি।’

অন্যদিকে ‘মিরু মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ’ নামে একটি সংগঠনের নাম করে শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জ আদালত চত্বরে এরই মধ্যে পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। এমনকি একই ব্যানারে একটি ফেসবুক আইডি খুলে সেখানেও মিরুর মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে। ফেসবুক ও পোস্টারে মিরুকে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব নিয়েও শাহজাদপুর ও জেলার মিডিয়াকর্মী ও দলীয় নেতাকর্মী এবং সমকাল শাহজাদপুরের প্রয়াত সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুলের স্বজনদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

শাহজাদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি বিমল কুমার কুণ্ডু এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মিরু ও তার বড় ভাই হিরুর মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে প্রমাণপত্র দাখিলে ব্যর্থ হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটিতে দু’জনেরই মুক্তিযুদ্ধের সনদ ভুয়া হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এছাড়া, শিমুল হত্যাকাণ্ডের পরপরই কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ থেকে মিরুকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এমনকি, মেয়রের আর্থিক ক্ষমতা প্যানেল মেয়র নাসির উদ্দিনকে হস্তান্তর করা হয়েছে। মিরু মুক্তি পরিষদ নামে সংগঠনের পোস্টারে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ ও দলের পদ ব্যবহার করে মুক্তির দাবিতে পোস্টার সাঁটানোর বিষয় খুবই দুঃখজনক।’

প্রসঙ্গত, শাহজাদপুরে গত ২ ফেব্রুয়ারি উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে মেয়র মিরু ও তার দুই ভাই মিন্টু ও পিন্টুর সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষের সময় মেয়র মিরুর ছোড়া গুলিতে সমকাল শাহজাদপুর উপজেলা প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুল গুলিবিদ্ধ হন। পরদিন ঢাকা নেওয়ার পথে মারা যান। এ ঘটনার শিমুলের স্ত্রী মেয়র মিরু ও ভাই মিন্টুসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ এরই মধ্যে মিরু ও মিন্টুসহ ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছেন। মিরুর জব্দকৃত শটগান ও গুলির ব্যালেস্টিক পরীক্ষার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে য়ে, শিমুলের মাথায় প্রাপ্ত গুলির সঙ্গে মিরুর শটগানের গুলির হুবহু সাদৃশ্য রয়েছে।

/এফএস/

আরও পড়ুন- 



সময় মতো বাঁধ না হওয়ায় সুনামগঞ্জে ৭২ হাজার হেক্টর জমির ধান পানির নিচে