বগুড়ার মেয়রকে হত্যার হুমকি, আ. লীগের ৩ নেতার নামে জিডি

বগুড়া

বগুড়া পৌরসভার মেয়র একেএম মাহবুবুর রহমানকে হত্যা এবং পৌর কার্যালয়ে বসতে না দেওয়ার হুমকির অভিযোগে ক্ষমতাসীন দলের তিন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১৩ জনের বিরুদ্ধে জিডি হয়েছে। সোমবার রাতে মেয়র সদর থানায় এ জিডি করেছেন।

নিরাপত্তাহীনতার কারণে মেয়র মঙ্গলবার পৌরসভায় যাননি। ওসি এমদাদ হোসেন জানান, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জিডি থেকে জানা গেছে, যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মতিন সরকার শহরের রাজাবাজার, ফতেহ আলী বাজার ও চাষী বাজারের ইজারাদার। তিনি গত বছর প্রায় ৮৫ লাখ টাকায় ইজারা নেন। চলতি বছরও একই দামে বাজার তিনটি ইজারা পেতে হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট বাজারগুলোর ইজারা প্রদান স্থগিত করেন। মেয়র মাহবুবুর রহমান সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে আগের আদেশ স্থগিত হয়ে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মেয়র ৩১ মার্চ তিনটি বাজারের ইজারা বিজ্ঞপ্তি দেন। এতে সরকারি দলের নেতারা ক্ষুব্ধ হন।

মেয়রের অভিযোগ, ৩ এপ্রিল সকালে শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবদুল মান্নান, যুবলীগ নেতা আবদুল মতিন সরকার ও বাজারগুলোর তত্ত্বাবধায়ক জয়সোয়াল কানাইলাল ময়নার নেতৃত্বে অজ্ঞাত ১২-১৩ জন তার শহরের জলেশ্বরীতলার বাসায় ঢোকে। বাজারের ইজারা বিজ্ঞপ্তি দেওয়ায় তারা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এরপর মান্নান তাকে লাঞ্ছিত করেন এবং তাকে পৌরসভায় যেতে নিষেধ ও রাস্তায় পেলে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন।

মেয়র আরও জানান, তাকে হত্যা ও অফিসে না বসতে দেওয়ার হুমকি এবং লাঞ্ছিত করায় সোমবার রাতে সদর থানায় উল্লিখিত ৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করা হয়েছে। বর্তমানে মেয়র নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং পৌরসভার সম্পত্তি বিনষ্টের আশঙ্কা করছেন।

আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মান্নান বলেন, ‘মেয়র বাজার ইজারা দেওয়ার  ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ না দেখানোয় তাকে শুধু গালিগালাজ ও হাতধরে টানাটানি করা হয়েছে। কিন্তু মারপিট বা গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়নি।’ জেলা বিএনপি এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে।

 /এসটি/