নতুন বাবা-মায়ের কাছে ‘একুশ’

নতুন মায়ের কোলে একুশ (ছবি- ফোকাস বাংলা)

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে ডাস্টবিনে পাওয়া শিশু ‘একুশ’কে তার নতুন বাবা-মা শাকিলা আক্তার ও ডা. জাকির ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেছেন চট্টগ্রামের এক আদালত। বুধবার (৫ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ও শিশু আদালতের বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস একুশকে নতুন বাবা-মার হাতে তুলে দেন। চট্টগ্রাম শিশু আদালতের বিশেষ পিপি এমএ ফয়েজ বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এমএ ফয়েজ বলেন, ‘চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে একুশ’কে শাকিলা আক্তার ও ডা. জাকির ইসলাম দম্পতির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আদালতের সামনে পড়াশুনার খরচ বাবদ এক লাখ ৫২ হাজার টাকার ব্যাংক হিসাব দেখালে শিশুটিকে ওই দম্পতির কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

একুশকে পেয়ে কেঁদে ভাসালেন শাকিলা আক্তার (ছবি- ফোকাস বাংলা)

তিনি আরও জানান, চমেক হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডের সহকারী রেজিস্ট্রার ড. দেবাশীষ কুমার রায় এবং ওয়ার্ডের ইনচার্জ শিখা ভাট্টাচারিয়া শিশুটিকে আদালত কক্ষে নিয়ে আসেন। এরপর আদালত তাকে শাকিলা আক্তার ও ডা. জাকির ইসলাম দম্পতির হাতে তুলে দেন।

পিপি এমএ ফয়েজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বীমার ডকুমেন্টে ওই শিশুর নাম আব্দুল খালেদ মো. মুজিব সেকান্দার লেখা হলে আদালত এর পাশে একুশ যুক্ত করতে নির্দেশ দেন।’

এর আগে আদালত ওই দম্পতিকে জানান, শিশুটিকে তাদের জিম্মায় নিতে চাইলে তার নামে ১০ লাখ টাকার শিক্ষাবীমা খুলতে হবে। বীমা খোলার পরই তারা চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে একুশকে নিজেদের জিম্মায় নিতে পারবেন।

একুশকে কোলে নিয়ে আদালত ছাড়ছেন শাকিলা আক্তার (ছবি- ফোকাস বাংলা)

উল্লেখ্য, ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১০ টায় নগরীর আকবর শাহ থানাধীন কর্নেলহাট প্রশান্তি আবাসিক এলাকার একটি ভবনের পেছনে এক শিশু সন্তানের কান্না শুনতে পান কয়েকজন স্থানীয় ছাত্রলীগকর্মী। পুলিশকে খবর দিলে আকবর শাহ থানা পুলিশ ও ছাত্রলীগকর্মীরা অসুস্থ শিশুটিকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। একুশে ফেব্রুয়ারির দিন উদ্ধার হওয়ায় শিশুটির নাম রাখা হয় ‘একুশ’। একুশকে জিম্মায় নেওয়ার জন্য ১৪টি আবেদন জমা পড়ে।

/এমএ/