এ ঘটনায় ২২ বাংলাদেশি শ্রমিকের মধ্যে উদ্ধার হওয়া ১৯ জন বাদে বাকি তিন শ্রমিক চট্রগাম বন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া লাইটারের অপেক্ষায় জাহাজটিতেই অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার এম ওয়ালিউল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মোবাইল ফোনে বাংলা ট্রিবিউনকে একই খবর নিশ্চিত করেছেন উদ্ধার হওয়া ক্রেন ডাইভার মো. মাসুদ। তিনি জানান, তার সঙ্গে থাকা শ্রমিকদের সবাই ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। নৌবাহিনীর সদস্যরা সব শ্রমিককে খাবার সরবরাহ করেছে ও প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছে। রাতের যেকোনও সময় টাগবোট মংলায় পৌঁছাবে বলেও আশা করছেন উদ্ধার হওয়া শ্রমিকরা।
এদিকে, শিপিং এজেন্ট ও স্থানীয় স্টিভিডরস সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছে, পানামার পতাকাবাহী এমভি স্টার অথয়া জাহাজে থাকা বিদেশি নাবিকদের জন্য প্রয়োজনীয় বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও রসদ দ্রুত সরবরাহ করতে চট্রগ্রাম বন্দর থেকে দু’টি বড় লাইটার রওনা হয়েছে। এছাড়া ওই দু’টি লাইটার জাহাজ থেকে ৫ হাজার টনের বেশি কয়লা খালাস করার কথা রয়েছে। আর এ কয়লা খালাস করা সম্ভব হলে জাহাজের ড্রাফ কমে যাবে এবং বিদেশি ওই জাহাজটি দ্রুত মংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলে প্রবেশ করতে পারবে।
ইন্দোনেশিয়া থেকে বিদেশি ওই জাহাজটি ২৮ হাজার ৫শ’ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে গত ১০ মার্চ মংলা বন্দরের অদূরে বঙ্গোপসাগরের ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকায় অবস্থান করে। এরপর ২৬ মার্চ লাইটারে করে জাহাজের কয়লা খালাস কাজে অংশ নেন শ্রমিকরা। একদিন পর সমুদ্র উত্তাল থাকায় আর কোনও নৌযান জাহাজের সঙ্গে ভিড়তে না পেরে ফেরত আসে। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করায় জাহাজে থাকা ২৩ বিদেশি নাবিক ও ২২ জন বাংলাদেশি শ্রমিক চরম খাদ্য সংকটে পড়েন। শেষ পর্যন্ত মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নৌবাহিনীর সদস্যরা দেশীয় ১৯ জন শ্রমিককে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার এম ওয়ালিউল্লাহ জানান, কয়লা বোঝাই জাহাজটি হিরণ পয়েন্ট থেকে প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে গভীর সমুদ্রে অবস্থান করছে। মংলা বন্দর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১২০ নটিক্যাল মাইল। দুযোগপূর্ণ আবহাওয়া ও সমুদ্র উত্তাল থাকায় কোনও ধরনের কার্গো ও কোস্টার ওই এলাকায় পৌঁছাতে পারছে না। এ কারণে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য পৌঁছানো সম্ভব হয়নি জাহাজটিতে। এ অবস্থায় বিদেশি এ জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট ও স্টিভিডরস বন্দর কর্তৃপক্ষের সাহায্য চায়। বুধবার সকালে নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ ঘটনাস্থল থেকে ঝুঁকি নিয়ে ১৯ জনকে উদ্ধার করেছে।
/এফএস/