এফআইআর খাতার পৃষ্ঠা ছিঁড়ে আসামি ছেড়ে দেওয়ায় ওসিকে প্রত্যাহার

ওসি মো. আহসান উল্লাহ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী মডেল থানায় এফআইআর খাতা থেকে পৃষ্ঠা ছিঁড়ে অপহরণ মামলার আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসান উল্লাহকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শুক্রবার (৭ এপ্রিল) জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাকিব খান বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাকিব খান বলেন, ‘তদন্তের পর ওসি মো. আহসান উল্লাহকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার।’

এর আগে গত ৩ এপ্রিল হোসেনপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জামাল উদ্দিনকে নিয়ে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গতকাল (বৃহস্পতিবার) তদন্ত শেষে পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জামাল উদ্দিন।

মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘দ্রুততম সময়ে তদন্তের কাজ শেষ করেছি। অভিযোগের সত্যতার ব্যাপারে কিছু বলতে চাই না। যা বলার তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছি।’

প্রসঙ্গত, কটিয়াদী উপজেলার বীর নোয়াকান্দি গ্রামের আসাদ মিয়া নামে এক ব্যক্তি তার মেয়েকে অপহরণের অভিযোগে গত ২২ জানুয়ারি একই গ্রামের জমির উদ্দিনের ছেলে রবিন মিয়াসহ (১৯) তিনজনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করেন। থানার ওসি মো. আহসান উল্লাহ মামলাটি রেকর্ড করার পর ওই দিনই মামলার প্রধান আসামি রবিনকে গ্রেফতার করেন। পরদিন মেয়েটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসে। কিন্তু পরে মেয়েটিকে মাঝপথ থেকে থানায় ফিরিয়ে এনে তাকে তুলে দেওয়া হয় বাবার হাতে। ওইদিন গভীর রাতে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় মামলার এফআইআরভুক্ত আসামি রবিনকে। রেকর্ডভুক্ত মামলার কপিও কোর্টে পাঠানো হয়নি। ২২ জানুয়ারি ১২টার দিকে দায়ের হওয়া মামলার (মামলা নং -১৩, এফআইআর  ফরমের সিরিয়াল নং- ০১৭১৩৭১৩) এফআইআর  বই থেকে প্রাথমিক তথ্য বিবরণীর পাতাটি ছিঁড়ে ফেলা হয়। এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর একই নম্বরে কটিয়াদী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপর একটি মামলা রেকর্ড করা হয়। (মামলা নং -১৩, এফআইআর  ফরমের সিরিয়িাল নং- ০১৭১৩৭১৪)।

/এমএ/