মৌলভীবাজারের নাসিরপুর ও বড়হাট এলাকার জঙ্গি আস্তানা এখনও সার্বক্ষণিক পাহারায় রেখেছে পুলিশ। ভেতরে শক্তিশালী বিস্ফোরক থাকতে পারে, এমন আশংকা থেকেই আস্তানা দুটি ঘিরে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে।
এ ব্যাপারে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বোম্ব ডিসপোজাল টিম পরিদর্শনে আসার আগ পর্যন্ত আস্তানা দুটিতে পুলিশি পাহারা থাকবে। এরপর তা মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আস্তানা দুটির সামনে বসে পাহারা দিচ্ছেন একদল পুলিশ সদস্য। তবে মূল ফটক বন্ধ। দুটি বাড়ির-ই সীমানা দেওয়াল কাঁধসমান উঁচু। ওপর দিয়ে উঁকি দিলে দেখা যায়, বাড়ি দুটির দেয়ালে গুলির চিহ্ন রয়েছে। জানালার কাচগুলো ভাঙা। অনেকটাই যেন ভুতুড়ে অবস্থা। বাড়িটিকে দূর থেকে দেখতে জড়ো হয়েছেন আশেপাশের এলাকার উৎসুক মানুষ।
এদিকে, বড়হাটে অপারেশন ম্যাক্সিমাস ও নাসিরপুরে অপারেশন হিট ব্যাক সফল হলেও স্থানীয়রা এখনও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন।
বড়হাট মোকামবাড়ীর বাসিন্ধা জোসনা বেগম বলেন, ‘ভোররাতের দিকে পুলিশ বাড়িটি ঘেরাও করে। ঘটনার সময় আমাদের বাড়ি থেকে বাইরে বের হতে দেওয়া হয়নি। ওই সময় খুব আতঙ্কে ছিলাম। দুই বা তিনদিন কীভাবে কেটেছে, একমাত্র আল্লাহ জানে। রাত-দিন গুলির শব্দে ঘুম আসতো না। এখনও সেই আতঙ্কের রেশ কাটেনি।’
জঙ্গি বাড়ি দুটির মালিক সাইফুর রহমানের আত্মীয় কাপ্তান মিয়া (৭০) বলেন, ‘এখনও আতঙ্ক কাটেনি। গুলির আওয়াজে যে ভয় ঢুকেছে তা এখনও কাটেনি। এখনও সেই আওয়াজ কানে ভেসে আসে।’
এসএসসি পরীক্ষার্থী উজ্জ্বল মিয়া বলেন, ‘কখন কী হয়, এখনও ভয়ে আছি।’ একই কথা জানালেন স্কুলছাত্র জয়নুল মিয়া।
/এমএ/