স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সেলিম বেপারি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) জেলা কারাগার থেকে বিপুলের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি লাশ নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তিনি একটি কাগজে লিখিত দেন, তিনি লাশ দেখবেন না এবং গ্রহণও করবেন না। ওয়ার্ড মেম্বার হিসেবে ওই কাগজে আমারও সই নেওয়া হয়।’
সেলিম বেপারি বলেন, ‘আজ (বুধবার) বিকালে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আবারও আমাকে ফোন করে জানান, লাশটি এখানে আসবে। আপনি আসেন। পরে ইউপি চেয়ারম্যানসহ আমি রিপনদের বাড়িতে গিয়ে লাশ দাফনের জন্য স্থান নির্ধারণ করেছি। এটি তাদের পারিবারিক কবরস্থান। লাশ দাফনের জন্য সার্বিক দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের এই সদস্য জানান, লাশ দাফনের প্রস্তুতি পরিবারের পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে না, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকেই প্রশাসন এই প্রস্তুতি নিতে শুরু করে বলে জানান তিনি।
এদিকে চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়ালি উল্যা ওলি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি বিপুলের ফাঁসির খবর শুনেছি। তবে চাঁদপুর তার লাশ আসার খবর আনুষ্ঠানিকভাবে পাইনি। সে কারণে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না।
উল্লেখ্য, সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.)- এর মাজার প্রাঙ্গণে ২০০৪ সালের ২১ মে বাংলাদেশে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপরে গ্রেনেড হামলা করে হরকাতুল জিহাদের জঙ্গিরা। এ ঘটনায় আনোয়ার চৌধুরীসহ ৭৬ জন আহত হন। ঘটনাস্থলেই পুলিশের এএসআই কামাল উদ্দিন নিহত হন। পরে পুলিশ কনস্টেবল রুবেল আহমেদ ও হাবিল মিয়া নামে আরেক ব্যক্তি হাসপাতালে মারা যান।
পুলিশ ওই দিনই সিলেট কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করে। ২০০৭ সালের ৭ জুন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান, তার ভাই মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ ওরফে অভি, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার ওরফে রিপনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
মামলায় ৫৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সামীম মো. আফজাল রায় ঘোষণা করেন। আসামিদের মধ্যে মুফতি হান্নান, বিপুল ও রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ওই রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেন হান্নান ও বিপুল। আর রিপনের পক্ষে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়। শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত রায়েও ওই তিন আসামির সর্বোচ্চ সাজার সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।
গত বছরের ৭ ডিসেম্বর মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে ওই তিন জঙ্গির আপিল শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের আপিল বিভাগ খারিজ করে দেন। চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি মুফতি হান্নানসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।
ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের (মুত্যুদণ্ড অনুমোদনের আবেদন) শুনানি শেষে চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি রায় দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ। তাতে আসামিদের আপিল খারিজ হয়ে যায়। ফলে মুফতি হান্নানসহ তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং দু’জনের যাবজ্জীবন দণ্ড বহাল থাকে।
এরপর রায় পুনর্বিবেচনার আপিলও খারিজ হয়ে গেলে গত ২১ মার্চ তাদের মৃত্যু পরোয়ানা কারাগারে পাঠানো হয়। সবশেষে ছিল কেবল রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা। সেটিও ১০ এপ্রিল প্রত্যাখ্যাত হলে কারাবিধি অনুযায়ী বুধবার রাত ১০টায় তাদের দণ্ড কার্যকর করা হয়।
/এপিএইচ/টিআর/
আরও পড়ুন-
মুফতি হান্নানসহ তিন জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর
মায়ের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছে মুফতি হান্নান
‘জঙ্গি রিপনের ফাঁসি কার্যকরে প্রস্তুত ১০ জল্লাদ’
যেকোনও সময় মুফতি হান্নানের ফাঁসি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মুফতি হান্নানের গ্রামের বাড়িতে দাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন
তওবা পড়ানো হলো মুফতি হান্নান ও বিপুলকে
একই সময়ে গাজীপুর-সিলেটে তিন জঙ্গির ফাঁসি!
রিপনকে তওবা পড়াতে ইমাম নিয়ে কারাগারে ডিআইজি প্রিজন
সাক্ষাৎ শেষে কারাগার ছাড়ল জঙ্গি রিপনের পরিবার
কাশিমপুর কারাগারে ঢুকেছেন আইজি ও ডিআইজি প্রিজন
জঙ্গি রিপনকে ফাঁসিতে ঝোলাবে ১০ জনের জল্লাদ প্যানেল
কাশিমপুর কারাগারের সামনে সাজোয়া যান: সাধারণের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণে
রিপনের সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে পরিবার