রংপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে এক বৃদ্ধার মৃত্যু

রংপুর

রংপুর নগরী সহ দুই উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে ঘর চাপা পড়ে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২৫জন। ঝড়ে ৫ শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে। উপড়ে গেছে শত শত গাছ। ঝড়ের কারণে বিদ্যুত লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রংপুরের পীরগজ্ঞ ও মিঠাপুকুর উপজেলায় বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ দুটো উপজেলা পুরোপুরি অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। শনিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঝড় ছিল।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে শনিবার বিকেল সাড়ে ৫ টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলার উপর দিকে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। এতে করে শত শত গাছ পালা উপড়ে গেছে। প্রায় ৫ শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধস্ত হচ্ছে। ঝড়ে বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের তার বিভিন্ন স্থানে ছিড়ে যাওয়ায় এবং বিদ্যুতের পোল পড়ে যাওয়ায় পীরগজ্ঞ ও মিঠাপুকুর উপজেলায় বিদ্যুত সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

অন্যদিকে ঝড়ে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মহাসড়কে গাছ উপড়ে মহাসড়কে পড়ে যাওয়ার কারণে রংপুর ঢাকা মহাসড়কে সন্ধা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ ছিল। এ ব্যাপারে মিঠাপুকুর থানার ওসি মোজাম্মেল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মহাসড়কে গাছ পড়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ থাকার কথা স্বীকার করে বলেন আমরা পুলিশ ও স্থানীয় জনসাধারনের সহায়তায় মহাসড়কের উপর পড়ে থাকা গাছের ডাল পালা সরিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছি। ফলে সন্ধা ৭ টার পর যান চলাচল পুরোটাই স্বাভাবিক হয়ে আসে।

এদিকে পীরগজ্ঞ উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতোয়ার রহমান মন্ডল জানান তার ইউনিয়নের অন্তত শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ঝড়ে বিধস্ত হয়েছে। ভুট্টা ও বোরো ধানের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। অন্যদিকে চৈত্রকোল ইউনিয়নের স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মোস্তাফিজার রহমান জানান ঝড়ে ঝাড় বিশলা গ্রামের সালেহা বেওয়া (৭০) নামে এক বৃদ্ধা ঘর চাপা পড়ে নিহত হয়েছে। অন্যদিকে ভেন্ডাবাড়ি দাখিল মাদ্রাসা ভবনের পুরো টিনের চাল উড়ে গেছে।

স্থানীয় সাংবাদিক সরোয়ার জাহান জানান ঝড়ে পীরগজ্ঞ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন কম বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শত শত গাছ পালা উপড়ে গেছে অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে।

এদিকে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ সাংবাদিকদের জানান কালবৈশাখী ঝড়ে মিঠাপুকুর উপজেলা সদরের কৃষ্ণপুর আলাদিপুর গ্রামের বেশ কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে। এ ছাড়াও বালারহাট, কাফ্রিখাল ও ইমাদপুর ইউনিয়নের কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পেয়েছেন বলে জানান।

রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাহেব আলী নামে একজন কর্মকর্তা জানান ঝড়ে পীরগজ্ঞ মিঠাপুকুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুতের লাইন মেরামত কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

/এমএইচ/