রান্নার অংশগ্রহণকারী নারীরা সবাই নিজ নিজ বাড়ি থেকে সবজি রান্না করে নিয়ে আসেন। ৬৮ জন প্রতিযোগীর মধ্যে প্রাথমিক বাছাইয়ে প্রথম দফায় ৩৮ জন বাদ পড়েন। বাকি ৩০ জনের রান্না করা সবজি চেখে দেখেন ১০ বিচারক।বিচারক হিসেবে থাকা স্থানীয় সাংবাদিক কবির হোসেন এ তথ্য জানান।
তিনি আরও জানান, ‘বিচারকদের তালিকায় যাদের রাখা হয়, তাদের মধ্যেও ছিল ব্যতিক্রমী চিন্তা-ভাবনা।বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সবজিচাষী,সবজি বহনকারী ভ্যানচালক,কেশবপুর উপজেলা পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা, ছাত্রী, শিক্ষক, সাংবাদিক, গৃহিণী এবং কেশবপুর ও অভয়নগর উপজেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তারা।’
প্রতিযোগিতায় প্রথম হন মনিরা বেগম।তিনি রান্না করেন এচোঁড়ের তরকারি এবং পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন একটি মাইক্রোওয়েভ ওভেন। দ্বিতীয় হন চুমকি পাল। পুরস্কার হিসেবে তিনি পেয়েছেন ডিনার সেট। তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন আট জন নারী। তারা হলেন,চন্দনা সাহা, সুষমা মল্লিক, শামীমা ইসলাম মনি, স্মিতা দাস, পারভিন নাসির, স্বপ্না সাহা, আফরোজা খাতুন। এদের সবাইকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।
প্রতিযোগিতায় আগত গৃহিণীরা জানান, সংসারে তারা কত কাজ করেন, অথচ মূল্যায়ন হয় না। রান্না যে খুব সহজ কাজ, তা ঠিক নয়। এতে অনেক মেধা খাটাতে হয়। এই আয়োজনে তারা খুব খুশি বলেও জানান।
জানতে চাইলে কেশবপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ রায়হান কবির বলেন, ‘আমি হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্ত নিইনি। গত বছর কেশবপুরে চা দোকানিদের নিয়ে আয়োজন করেছিলাম, সেরা চা প্রস্তুতকারী ব্যক্তি। চা বানিয়ে সেরা হয়েছিলেন একজন। তাকে উপহারসহ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।’
ইউএনও বলেন, ‘তারই ধারাবাহিকতায় এবার সেরা রাঁধুনী প্রতিযোগিতার এই আয়োজন। আমাদের মা ও গৃহিণীরা সব সময় পর্দার অন্তরালে থাকেন। তাদের সারাটা জীবন কাটে রান্নাঘরে। তাদের মূল্যায়নের সামান্য এই উদ্যোগ। আর এতে নারীরা বেশ খুশিই হয়েছেন।’
/এপিএইচ/
আরও পড়ুন: রাজধানীর ৪০ শতাংশ ভোটার স্মার্ট কার্ড নিতেই যাননি