যশোরে অন্যরকম আয়োজন গৃহিণীদের সবজি রান্না

 

সনদ নিচ্ছেন রান্না প্রতিযোগিতায় বিজয়ী এক নারীযশোরের কেশবপুরে গৃহিণীদের সবজি রান্না নিয়ে ব্যতিক্রমী এক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মূল লক্ষ্য ছিল ‘সেরা রাঁধুনী’ বাছাই করা। রান্নার এই আয়োজনের উদ্যোক্তা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শরীফ রায়হান কবীর।তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ৬৮জন গৃহিণী শনিবার অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

রান্নার অংশগ্রহণকারী নারীরা সবাই নিজ নিজ বাড়ি থেকে সবজি রান্না করে নিয়ে আসেন। ৬৮ জন প্রতিযোগীর মধ্যে প্রাথমিক বাছাইয়ে  প্রথম দফায় ৩৮ জন বাদ পড়েন। বাকি ৩০ জনের রান্না করা সবজি চেখে দেখেন ১০ বিচারক।বিচারক হিসেবে থাকা স্থানীয় সাংবাদিক কবির হোসেন এ তথ্য জানান।

কার রান্না ভালো, বিচারকমণ্ডলী তা যাচাই করে দেখছেনতিনি  জানান, ‘বেশ কিছুদিন আগেই ইউএনও উপজেলার গৃহিণীদেরকে  রান্না প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। শনিবার কেশবপুর পাবলিক ময়দানের বৈশাখিমেলায় সবজি রান্নার  এই ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এলাকার গৃহিণীরা একটি করে সবজির পদ রান্না করে নিয়ে আসেন। এতে বেগুন, কচি কাঁঠালের (এঁচোড়) তরকারি, পনির, লাউশাক, কচুশাক, মোচার তরকারিসহ বিভিন্ন রান্নার সমাহার ঘটে।’

তিনি আরও জানান, ‘বিচারকদের তালিকায় যাদের রাখা হয়, তাদের মধ্যেও ছিল ব্যতিক্রমী চিন্তা-ভাবনা।বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সবজিচাষী,সবজি বহনকারী ভ্যানচালক,কেশবপুর উপজেলা পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা, ছাত্রী, শিক্ষক, সাংবাদিক, গৃহিণী এবং কেশবপুর ও অভয়নগর উপজেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তারা।’

প্রতিযোগিতায় প্রথম হন মনিরা বেগম।তিনি রান্না করেন এচোঁড়ের তরকারি এবং পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন একটি মাইক্রোওয়েভ ওভেন। দ্বিতীয় হন চুমকি পাল। পুরস্কার হিসেবে তিনি পেয়েছেন ডিনার সেট। তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন আট জন নারী। তারা হলেন,চন্দনা সাহা, সুষমা মল্লিক, শামীমা ইসলাম মনি, স্মিতা দাস, পারভিন নাসির, স্বপ্না সাহা, আফরোজা খাতুন। এদের সবাইকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।

সনদ হাতে বিজয়ী নারীরাবিজয়ী মনিরা খাতুন বলেন, ‘কেশবপুর উপজেলা প্রশাসন আমাদের মূল্যায়ন করেছে, এতেই আমরা খুশি।’

প্রতিযোগিতায় আগত গৃহিণীরা জানান, সংসারে তারা কত কাজ করেন, অথচ মূল্যায়ন হয় না। রান্না যে খুব সহজ কাজ, তা ঠিক নয়। এতে অনেক মেধা খাটাতে হয়। এই আয়োজনে তারা খুব খুশি বলেও জানান।

জানতে চাইলে কেশবপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  শরীফ রায়হান কবির বলেন, ‘আমি হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্ত নিইনি। গত বছর কেশবপুরে চা দোকানিদের নিয়ে আয়োজন করেছিলাম, সেরা চা প্রস্তুতকারী ব্যক্তি। চা বানিয়ে সেরা হয়েছিলেন একজন। তাকে উপহারসহ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।’

ইউএনও বলেন, ‘তারই ধারাবাহিকতায় এবার সেরা রাঁধুনী প্রতিযোগিতার এই আয়োজন। আমাদের মা ও গৃহিণীরা সব সময় পর্দার অন্তরালে থাকেন। তাদের সারাটা জীবন কাটে রান্নাঘরে। তাদের মূল্যায়নের সামান্য এই উদ্যোগ। আর এতে নারীরা বেশ খুশিই হয়েছেন।’

/এপিএইচ/

আরও পড়ুন: রাজধানীর ৪০ শতাংশ ভোটার স্মার্ট কার্ড নিতেই যাননি