বাবার সঙ্গে আত্মহত্যার আগের দিনও স্কুলে গিয়েছিল আয়েশা

আয়েশার স্কুল হেরাপটকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কর্ণপুর সিটপাড়া গ্রামের পাশের হেরাপটকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে পড়ত আয়েশা আক্তার। সে প্রতিদিনই স্কুলে যেত। শুধু তাই নয়, ছুটির দিনেও স্কুলে যেত সে। বাবার সঙ্গে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করার আগের দিন শুক্রবারও সে স্কুলে গিয়েছিল। তার মৃত্যুর ঘটনায় সহপাঠীরাও কষ্ট পেয়েছে।
২৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর রেলস্টেশনে মেয়ে আয়েশা আক্তারকে (৮) নিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন বাবা হযরত আলী (৫৫)। প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া আয়েশার শ্লীলতাহানির চেষ্টার ঘটনায় বিচার না পেয়েই বাবা-মেয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
আয়েশার সহপাঠী নাসিম জানায়, আয়েশা নিয়মিত স্কুলে যেত। সামনের সারিতে জায়গা থাকলেও সে বসত পেছনের সারিতে। স্কুলে বেশিরভাগ সময়ই চুপচাপ থাকত আয়েশা।
আয়েশার আরেক সহপাঠী সানজিদা বলে, ‘আয়েশা কখনও দুষ্টুমি করত না। কেউ তার সঙ্গে দুষ্টুমি করলেও সে কিছু বলত না। ওর বাড়ির কাছেই আমার বাড়ি। তাই বেশিরভাগ দিনই আমরা একসঙ্গে বাড়ি ফিরতাম। এখন স্কুল শেষ হলে আমি একাই বাড়ি ফিরি।’
ওই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মামুন বলে, ‘আয়শার সঙ্গে দুষ্টুমি করলে সে উল্টো কাউকে মারত না। সে কান্না করে বাড়ি ফিরত। মৃত্যুর আগের দিন শুক্রবারও সে স্কুলে গিয়েছিল।’
হেরাপটকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করে পটকা সিনিয়র মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে নাদিম। সে জানায়, শুধু শুক্রবার নয়, যেকোনও ছুটির দিনেও বইখাতা নিয়ে স্কুলে যেত আয়েশা। স্কুলে আসার পর সে যখন জানতে পারত যে স্কুল বন্ধ, তখন চলে বাড়ি ফিরে যেত।
আয়েশার স্কুলের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ বছর আয়েশা আক্তারের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার কথা ছিল। কিন্তু বার্ষিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় তাকে প্রমোশন দেওয়া হয়নি। সে খুব চুপচাপ ধরনের ছিল। বেশিরভাগ দিনই স্কুল শুরু হওয়ার আধাঘণ্টা আগেই চলে আসত স্কুলে।’ আয়েশার মা তার বই হারিয়ে গেছে বলে জানালে আয়েশার জন্য আরেক সেট বইয়ে ব্যবস্থাও করা হয়েছিল বলে জানান প্রধান শিক্ষক।
আয়েশা আক্তারের শ্রেণিশিক্ষক ফাতেমা খাতুন, আফরোজা আক্তার ও তাহমিনা আক্তার বলেন, আয়েশা সাধারণত শেষ বেঞ্চে বসত। তার আচরণ অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মতো স্বাভাবিক ছিল না। সে অনেক বেশি চুপচাপ ছিল। তবে আদব-কায়দা ছিল তার।
এদিকে, শুক্রবার (৫ মে) সকালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পক্ষ থেকে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও ড্যাবের যুগ্ম মহাসচিব ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু নিহত আয়েশার মা হালিমা বেগমকে দেখতে তার বাড়ি যান। তিনি তার হাতে আর্থিক সহায়তা বাবদ নগদ ১০ হাজার টাকা তুলে দেন এবং চিকিৎসা সহায়তার আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুন-

কাঠমিস্ত্রির জোগালদার থেকে বিসিএস ক্যাডার

তামাক ছেড়ে ভুট্টা, কুষ্টিয়ায় চাষীদের মুখে হাসি

জেলখানা বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িঘর হয়ে গেছে: মির্জা আব্বাস

/টিআর/