ফেনীতে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ মিলেছে: তদন্ত সংস্থার প্রধান

ফেনীফেনীতে একাত্তর সালে যুদ্ধের সময় হত্যা, অপহরণ, লুটপাট অগ্নিসংযোগ, ধর্মান্তরিত ও মন্দিরের জায়গায় মসজিদ নির্মাণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, যার সাক্ষ্য-প্রমাণ এখনও বিদ্যমান রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা তথ্য, সাক্ষ্য ও প্রমাণাদি ট্রাইব্যুনালের তদন্তদলের কাছে অভিযাগ আকারে তুলে ধরেছেন । অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য যাছাই-বাছাই শেষে  জড়িত ব্যক্তিদের  বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে । শনিবার ফেনী সার্কিট হাউজে বাংলা ট্রিবিউনের প্রশ্নের জবাবে আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়কারী এমএ  হান্নান খান এসব কথা বলেন । এ সময় তদন্তদলের সদস্য ও  তদন্ত সংস্থার  সহকারী পরিচালক নুরুল ইসলাম,তদন্তকারী কর্মকর্তা আমিনুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন ।
মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়কারী এমএ  হান্নান খানের  নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্য শুক্র ও শনিবার দুদিন ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার খুশিপুরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আহসান উল্যাহর বাড়িতে যান ।  শহীদ আহসান উল্যাহর  স্ত্রী ছালেহা বেগম তদন্তদলকে জানান, তার স্বামীকে কিভাবে তুলে নিয়ে রাজাকার ক্যাম্পে নির্মম নির্যাতন করা হয় । হত্যার পর স্থানীয় সিলোনিয়া নদীতে লাশ ফেলে দিয়ে গুম করা হয়। কার  নির্দেশে কারা এই  ঘটনা ঘটায়  তার বিস্তারিত বিবারণ দেন ছালেহা বেগম । 

এছাড়া শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্বজনেরা তদন্তদলের কাছে একাত্তর সালে  ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের  বিচার দাবি করেন । একই সঙ্গে রাজাকার ,আলবদর, আলশামস বাহিনীর  নেতা বর্তমানে জামায়াতের আমির মকবুল আহমাদ , ইসলামি লাইফ ইন্সুরেন্সের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন ও সাবেক বিচারপতি আব্দুল আওয়ালের জড়িত থাকার বিষয়ে  তদন্তদলের কাছে অভিযোগ তুলে ধরেন।

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দল উপজেলার জয়লস্কর ইউনিয়নের লালপুর গ্রামের হিন্দুপাড়ায় ১০ জনকে তুলে নিয়ে শহরের সিও অফিস এলাকায় পাঞ্জাবিক্যাম্পে জীবিত অবস্থায় মাটিচাপা দিয়ে হত্যা করার বিষয়ে ওইসব পরিবারের স্বজনদের বক্তব্য শোনেন।

এছাড়া তদন্তদল শুক্রবার রাতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন ও আবদুল ওহাবকে প্রকাশ্যে গুলি করে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাস্থল ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণ করেন ।

তদন্তদলের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাওয়া দাগনভূঁঞা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের  কমান্ডার শরিয়ত উল্যাহ বাঙালি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মকবুল আহমাদের নির্দেশে রাজাকার মোশাররফ হোসেন মশা দাগনভূঁঞা উপজেলার খুশিপুর গ্রামের আহসান উল্লাহ নামে  এক মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করে। একইভাবে তার নির্দেশে জয়লস্করের লালপুল গ্রামে এক হিন্দুবাড়িতে ১০ জনকে হত্যাসহ অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয় । মকবুলের ভাই খবির রাজাকারের নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্নস্থানে  সাধারণ মানুষকে নির্মমভাবে  হত্যা , বিভিন্ন বাড়িতে অগ্নি সংযোগ ও লুটপাট করা হয়। তদন্তদল সেসব ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন ও তথ্য সংগ্রহ করে ।’

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার  মীর আবদুল হান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তদন্তদলকে আমাদের কাছে থাকা তথ্য দিয়েছি। মকবুল আহমাদসহ মজলিশপুরের তোফাজ্জল হোসেন ওরফে তজু রাজাকার, শর্শদির আউয়াল রাজাকার, কালীদহের নূর করিম, ছাগলনাইয়ার মৌলভী আবুল কাশেমসহ ছয় উপজেলার প্রায় দুশো রাজাকারের মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের তথ্য সম্পর্কে জানিয়েছি।’

মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মীর আবদুল হান্নান বলেন,‘জামায়াতের বর্তমান  আমির মকবুল আহমাদ একাত্তর সালে মহকুমা জামায়াতের আমির ছিলেন।তার নির্দেশে ফেনীর স্থানীয় রাজাকার, আলবদর বাহিনীর সদস্যরা ফেনী কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন নেতা মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা ওয়াজ উদ্দিনকে চট্টগ্রামে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।’ এর দালিলিক প্রমাণ রয়েছে।ট্র্যাইবুনালের কাছে আমরা এদের বিচার দাবি করেছি।’

/এপিএইচ/