মানববন্ধন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে পোলট্রি খামারিরা বলেন, বর্তমানে প্রতি পিস সাদা ও লাল ডিম উৎপাদন করতে ছয় টাকার ওপরে খরচ পড়ে। কিন্ত গত তিন মাস ধরে সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে সাড়ে চার টাকা, আর লাল ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে প্রতি পিস পাঁচ টাকায়। বহুজাতিক কোম্পানি ও দালালদের খপ্পরে পড়ে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে ছোট ছোট অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। মুরগির ডিমের দাম কমে যাওয়ার পাশাপাশি পোলট্রিফিডসহ অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। দীর্ঘদিনেও মুরগির বাচ্চার সিন্ডিকেট ভাঙা যায়নি । বর্তমানে একদিনের প্রতি পিস বাচ্চা কিনতে হয় ১৩০ টাকায় । এ থেকে রেহাই চান খামারিরা।
শ্রীপুর পোলট্রি খামার সমিতির সভাপতি আব্দুল মতিন বলেন, ‘শ্রীপুরে বর্তমানে সাড়ে তিন হাজারের ওপরে ছোট বড় পোলট্রি খামার রয়েছে। গত কয়েকদিনের লোকসানে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে অনেক খামার। ’
শ্রীপুর অ্যাগ্রোভেট সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান আকন্দ বলেন, ‘পোলট্রি শিল্পকে বাঁচাতে দ্রুত সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। অন্যথায় এ শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। ’
মাসুদ পোলট্রির মালিক ফজলুল হক ফরাজী বলেন, ‘ব্রয়লার ও লেয়ার বাচ্চার মূল্য যেখানে ৩০/৩২ টাকা হওয়ার কথা, সেখানে বহুজাতিক কোম্পানির কাছ থেকে তাদেরকে প্রতিটি বাচ্চা ১০০/১৫০ টাকায় ক্রয় করতে হচ্ছে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো নিজেরাই ডিম ও মাংস উৎপাদন করছে। ফলে খামারিরা ডিমের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। নানাভাবে ক্ষুদ্র প্রান্তিক খামারিরা তাদের সঙ্গে ব্যবসায় টিকতে পারছেন না।’
খামারিরা মানববন্ধন থেকে পোলট্রি শিল্পের নীতিমালা বাস্তবায়ন, বাচ্চা, ঔষধ ও খাদ্যের দাম কমানো, বহুজাতিক কোম্পানির ডিম ও মাংস উৎপাদন বন্ধের জন্য সাতদিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন। এর মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে বড় ধরনের আন্দোলনের হুমকি দেন তারা।
/এপিএইচ/