ক্রেতা মো. ইয়াছিন আহম্মেদ জানান, হঠাৎ পণ্যের দাম বাড়ার কারণে হতাশা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। রোজার ৩ সপ্তাহ আগ থেকেই বাজার গরম হয়ে উঠেছে। পণ্য মূল্য ক্রমেই ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।
মিস্ত্রি পাড়া এলাকার মো. আবু হেলাল জানান, হঠাৎ করে পণ্যের দাম বাড়লেও বেতন বাড়েনি। রোজার মাস এবার যে কীভাবে চলবো সে ভাবনায় দিশেহারা হতে হচ্ছে।
বড় বাজারের সিদ্দিক স্টোরের বিক্রেতা অসীম দাস বলেন, রমজানের আগে হঠাৎ করে জিনিস পত্রের দাম বাড়তে শুরু করেছে।
বড় বাজারের তেল বিক্রেতা মো. আবুল হোসেন বলেন, মোকামের কারণে তেলের দাম বেড়েছে। সেই প্রভাব বাজারেও পড়েছে।
বড় বাজারের বাসুদেব স্টোরের মালিক বাসুদেব জানান, আমদানি বাড়লে ও পণ্যের ভ্যাট কমানো হলে জিনিসপত্রের দাম কমতে পারে।
এনএসডি বাণিজ্য ভান্ডারের মালিক মধুসূদন দাস বলেন, চালের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। আমদানি কম হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মিল মালিকরা ধান কিনে মজুদ করছেন।
সোনাডাঙ্গা ট্রাক টার্মিনাল সংলগ্ন পাইকারী কাঁচা বাজারের মৌসুমী বাণিজ্য ভান্ডারের খুলনা বিভাগীয় কমিশানার মো. আব্দুস সামাদ জানান, রমজানে পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।
খুলনা মহানগরীর বড় বাজার, কালীবাড়ি বাজার, মিস্ত্রিপাড়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সব ধরনের পণ্যে প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৪ থেকে ২০ টাকা। এর মধ্যে ছোলা ৮৩/৮৫ টাকা, চিনি ৬৮ টাকা, ৩৭০ টাকা, এলাচ এক হাজার ৫৫০ টাকা, সয়াবিন ৮৬ টাকা, পামওয়েল ৭৫ টাকা, সরিষার তেল ১৩০ টাকা, মোটা মুগ ডাল একশ টাকা, মাঝারি মুগ ডাল ৯৫ টাকা, সোনা মুগ ডাল ১০৮/১১০ টাকা, পরশ মিনিকেট চিকন ও মজুমদার বালাম চাল ৪৫ টাকা, আতপ চিকন চাল ৩৭ টাকা, মোটা আতপ চাল ৩৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজির মধ্যে ঘি কাঁঞ্চনসহ সাদা শাক প্রতি আঁটি ১৪/১৫ টাকা, লাল শাক ১২/১৩ টাকা, পুঁই শাক ৮/১০ টাকা, কলমি ও পুঁদিনা পাতা ৫ টাকা, পিঁয়াজ রিক্সাভ্যানে ৬ কেজি ১০০ টাকা, খোলা বাজারে ভারতীয় পিঁয়াজ ৩০/৩২ টাকা, দেশি পিয়াজ ২৬/২৮ টাকা, রসুন ৯০/১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির মধ্যে পটল ৪০ টাকা, ভেন্ডি ৩০, পেঁপে ৪০ টাকা, কুমড়া ২০ টাকা, ঝিঙ্গে ৩৫ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, উস্তে ৪০ টাকা, বেগুন ৩৮ টাকা, আলু ১৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, গরুর মাংস প্রতি কেজি ৪৭০ টাকা, খাসির মাংস ৬৫০ টাকা, ব্রয়লার মুরগী ১৩৫ টাকা, পাকিস্তানি মুরগী ১৮০ টাকা, দেশি হাঁস ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ টাকা কেজি, রাজ হাঁস ৪শ’ টাকা, চায়না মুরগী (লাল ঝুটি) ৪শ’ টাকা, বড় রুই ৪শ’ থেকে ৭শ’ টাকা, ছোট ও মাঝারি রুই ১৩০ থেকে ৩শ’ টাকা, কাতলা মাছ (বড়) ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা, বড় পাতাড়ী (ভেটকী) ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা, ছোট পাতাড়ী ২৫০ থেকে ৩শ’ টাকা, চিংড়ী প্রকারভেদে ২৭০ থেকে ৪৫০ টাকা, বাগদা ৬০০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা, বেলে মাছ ৪শ’ থেকে ৬শ’, চাষের কই ৪শ’, দেশি কই (মাঝারী) ৫৫০ টাকা, টেংরা ছোট ৪শ’, বড় টেংরা ৮শ’ টাকা, শিং ৬শ’ থেকে এক হাজার, পুটি (দেশি) ৪শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
/এসএনএইচ/