দিনাজপুরে ইতালির নাগরিক ও ধর্মযাজক ডা. পিয়েরো পারোলারিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন জঙ্গি হামলার সংশ্লিষ্টতার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে জেএমবির উত্তরাঞ্চলের সামরিক কমান্ডার রাজীব গান্ধী ওরফে জাহাঙ্গীর। বুধবার (১০ মে) সন্ধ্যায় দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে সে এই জবানবন্দি দেয়। দিনাজপুর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) বজলুর রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
এসআই বজলুর রশিদ জানান, গত ৮ মে জেএমবির সামরিক কমান্ডার রাজীব গান্ধীকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে সে ইতালির নাগরিক ও ধর্মযাজক ডা. পিয়েরো পারোলারিকে গুলি, ইসকন মন্দিরের নেতা ডা. বীরেন্দ্রনাথ রায়কে গুলি, ঐতিহাসিক কান্তজির মন্দির ও ইসকন মন্দিরে বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে। সে এসব ঘটনার পরিকল্পনা ও নির্দেশনাদাতা ছিল বলেও জানায়। পরে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার কথা জানালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৮ নভেম্বর নিজ কর্মস্থলে যাওয়ার পথে জেলা শহরের মির্জাপুর বিআরটিসি বাস টার্মিনালের সামনে তিন জেএমবি জঙ্গি ডা. পিয়েরোকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এতে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে আসা হয়। এখান থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। এরপর ৩০ নভেম্বর রাতে ডা. বীরেন্দ্রনাথ রায়কে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। এর চার দিনের মাথায় ৪ ডিসেম্বর রাতে আবার কান্তজির মন্দিরের রাসমেলায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। এই ঘটনার সপ্তাহ না পেরুতেই ১০ ডিসেম্বর রাতে আবার কাহারোল উপজেলার ডাবোর ইউনিয়নের জয়নন্দবাজারের পার্শ্ববর্তী ডহচি জগন্নাথ মন্দির ও ইসকন মন্দিরে ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনা ঘটে। এতে গুলিতে দুইজন আহত হন। এসব ঘটনার তদন্তভার পায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
গত বছরের পহেলা জুলাই রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিল এই রাজীব গান্ধী। ওই জঙ্গি হামলায় ১৭ জন বিদেশিসহ নিহত হন ২২ জন। তাদের মধ্যে দুজন পুলিশ কর্মকর্তাও ছিলেন। জঙ্গিদের গুলি ও বোমায় আহত হন পুলিশের আরও অনেকে।
/এমএ/