মানিকগঞ্জে ধর্ষণের আলামত নষ্ট করার অভিযোগে ইউপি সদস্য গ্রেফতার

মানিকগঞ্জ

বিচারের নামে ভূক্তভোগীকে আইনিসেবা পেতে বাধা ও ধর্ষণের আলামত নষ্ট করার অভিযোগে মানিকগঞ্জের আটিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সামছুল হক প্রামাণিক গ্রেফতার হয়েছেন। সম্প্রতি এক নারী শ্রমিক (১৮)ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে উপজেলার আটিগ্রাম ইউনিয়নের ভূক্তভোগী ওই নারী শ্রমিক থানায় মামলা করলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। 

মামলায় অন্য আসামিরা হলেন, সদর উপজেলার কাটিগ্রাম গ্রামের আলম মিয়া (৩০) ও শহিদ হোসেন (২০) ও মাসুদ রানা (৩০) এবং কৃষ্ণপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম (২৮)।

মামলার এজাহার এবং ভূক্তভোগী ভাষ্যমতে, আটিগ্রাম ইউনিয়নের ওই নারী শ্রমিক নয়াডিঙ্গী এলাকায় জুতা তৈরির একটি কারখানায় কাজ করেন। গত ২৪ এপ্রিল ঝড়বৃস্টির পর কারখানা ছুটি হলে  রাত নয়টার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে নয়াডিঙ্গী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। তবে ঝড় ও বৃষ্টির কারণে কোনো যানবাহন না পাওয়ায় গাড়ি পাচ্ছিলেন না। এ সময় সেখানে আলম ও শহিদের সঙ্গে তার দেখা হয়। তাঁরাও একই কারখানায় কাজ করেন। এ সময় ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে গাড়ি পাবেন না বলে তারা ওই নারীকে তাঁদের সঙ্গে হেঁটে বাড়ি যেতে বলেন। একই কারখানায় কাজ করার কারণে পূর্বপরিচিত হওয়ায় তিনি তাঁদের সঙ্গে হেঁটে বাড়ির দিকে রওনা হন। নয়াডিঙ্গী-রাজিবপুর সড়কের কৈট্টা এলাকায় পৌঁছার পর তারা ফোনে দুইজনকে কাটিগ্রাম বাজারে আসতে বলেন। রাত ১০ টার দিকে ওই বাজারের আগে একটি সেতুর কাছে পৌঁছার পর মাসুদ ও সাইফুল সেখানে উপস্থিত হন। এর পর ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সড়কের পাশে একটি বাঁশঝাড়ের ভেতর নিয়ে ওই চার আসামি তাঁকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।

ভূক্তভোগী ওই নারী বলেন, রাত ১২ টার দিকে বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের ঘটনাটি জানান। পরের দিন সকালে তার বাবা ও মা ঘটনাটি ইউপি সদস্য সামছুল হক প্রামানিককে জানালে তিনি বিষয়টি কারো কাছে জানাতে নিষেদ করেন। এরপর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিনি মিমাংসার নামে কালক্ষেপণ করতে থাকেন এবং মামলা না করার জন্য হুমকি দেন। পরে বিষয়টি পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান জানতে পারেন। তার সহযোগিতায় শুক্রবার রাতে মামলা করা হয়।

এ ব্যাপার মামলার তদন্তকর্মকর্তা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, ভূক্তভোগী ওই নারী শ্রমিকের ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে। ভূক্তভোগীকে আইনিসেবা পেতে বাধা ও ধর্ষণের আলামত নষ্ট করার অভিযোগে ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করা  হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

/এমএইচ/