বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি-সোনাইছড়ি সড়কের সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সড়কের আশপাশের বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংস্কার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিল্টন চাকমা নামে এক ঠিকাদারের প্রতিষ্ঠান ‘মিল্টন ট্রের্ডাস’ নাইক্ষ্যংছড়ি সদর থেকে সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জারুলিয়াছড়ি পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ পায়। এই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাজটি কিনে নেয় আলীকদম উপজেলার আবু বক্কর নামের অপর এক ব্যক্তি। আর এই আবু বক্কর বড় অঙ্কের টাকা হাতানোর জন্য সংস্কার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করছেন।
আবদুর রউফ নামে এক গাড়িচালক বলেন, ‘এই সড়ক কিছুদিন পরই খানাখন্দে ভরে যাবে। এর সংস্কারে দুই নম্বর ইটের লাল খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। রোলার ব্যবহার না করে কোনোরকম বিটুমিন লাগিয়ে শেষমেশ বালু দিয়ে তা ঢেকে দেওয়া হচ্ছে।’
উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে ৩ কিলোমিটারের মত কাজ শেষ হয়ে গেছে। ৩০ জুনের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সংস্কার কাজে মাটি ভরাটের জন্য ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও সড়কের কোথাও মাটি ভরাট করা হয়নি। সড়কের পাশে তিন ফুট প্রস্থের ড্রেন করার কথা রয়েছে; কিন্তু আড়াই ফুট প্রস্থের ড্রেন করা হয়েছে। ১২ মিলিমিটারের কার্পেটিং করার কথা থাকলেও ৪-৫ মিলিমিটারের কার্পেটিং করা হয়েছে। এভাবে প্রায় ৩ কিলোমিটারের মতো সড়কের সংস্কার করা হয়েছে। এছাড়া কার্পেটিংয়ের কাজে ৬০-৭০ গ্রেডের বিটুমিন ব্যবহার করার কথা থাকলেও ব্যবহার হচ্ছে পাতলা ও নিম্নমানের বিটুমিন। এতে সড়কটির বিভিন্ন অংশ ঢেউয়ের আকার ধারণ করেছে।
এস ও রেজাউল করিম নামে সড়ক সংস্কারের দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি জানান, কাজের গুণগত মান রক্ষার জন্য ঠিকাদারকে পরামর্শ দিচ্ছেন। এরপরও ঠিকাদার যদি অনিয়ম করে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষ না জেনে হয়তো কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। অনিয়ম বা নিম্মমানের কোনও সামগ্রী ব্যবহার করা হয়নি।’
/এমএ/