হয়ে গেলাম অলরাউন্ডার

দুলাল আব্দুল্লাহক্রিকেটের জনপ্রিয় ‘অলরাউন্ডার’ শব্দটা দিয়েই লেখাটা শুরু করছি। ২০০১ সাল। রাজশাহীর স্থানীয় দৈনিকসহ ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম আলো পত্রিকায় ক্রীড়া প্রতিবেদক হিসেবেই সাংবাদিকতায় আমার হাতেখড়ি। মাঠে-ঘাটে ঘুরে ঘুরেই কেটে যায় ১৪টি বছর। এই সময়টাতে আর অন্য কোনও দিকে নজর দেওয়ার সময় খুব একটা হয়ে ওঠেনি।
২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর। তানজিমুল নয়ন বাংলা ট্রিবিউনের ডেপুটি নিউজ এডিটর (বর্তমানে জয়েন্ট নিউজ এডিটর) মুঠোফোনের বার্তায় জানতে চাইলেন, অনলাইন নিউজ পোর্টালে কাজ করার আগ্রহ আছে কিনা। ততদিনে অবশ্য বাংলা ট্রিবিউন সবার নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে। নয়ন ভাই আন্তরিকভাবে জানিয়ে দিলেন, কাজ করলে কেবল খেলাধুলা নয়, রাজশাহীর সব সংবাদই পাঠাতে হবে। দেখেন দায়িত্ব নেবেন কিনা। সহযোগিতার আশ্বাসও দিলেন তিনি। তার অভয় আশ্বাসের পরেও আমি চিন্তিত। সারাজীবন গোল, স্কোর, রান, উইকেট নিয়ে মাতামাতি করা আমি রাজশাহীর সব সংবাদ কীভাবে কাভার করবো? আমি পারবো তো? এমন অনেক প্রশ্ন তখন মনের মধ্যে উঁকি দিচ্ছে।
মনে শঙ্কা থাকলেও পরিচিতদের সাহসে বাংলা ট্রিবিউনের বিভাগীয় এলাকা রাজশাহী প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা শুরু করলাম।
শুরুতে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলেও সম্পাদক জুলফিকার রাসেলের নেতৃত্বে হেড অব নিউজ হারুন উর রশীদ এবং ন্যাশনাল টিমের কো-অর্ডিনেটর ফৌজিয়া আপুসহ অন্যদের অনুপ্রেরণায় কিছুদিনের মধ্যেই কেটে গেল সব দ্বিধা।
নতুন উদ্যমে শুরু হলো কাজ। এবার কেবল মাঠেই নয়, ছুটতে হলো পথে-প্রান্তরে। গণমানুষের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে নতুন সব অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত হতে হলো। বাংলা ট্রিবিউনের দায়িত্বশীল মানুষগুলো আমাকে অলরাউন্ডার হতে শেখালেন। প্রায় এক যুগ খেলার মাঠে কাটিয়ে দেওয়া এই আমি সফলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি এখনও।
অভিজ্ঞতা আহরণের এই সুযোগ দেওয়ার জন্য বাংলা ট্রিবিউন পরিবারের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ। বাংলা ট্রিবিউনের কার্যালয় থেকে কখনোই বিভাগীয় বা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে আলাদা চোখে দেখা হয়নি আমাকে। যে কোনও প্রয়োজনে সবাই সুন্দরভাবে কথা বলেছেন, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। বাংলা ট্রিবিউনে কাজ করতে গিয়ে যা শিখেছি, সেগুলো ধরে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আমার কাছে। পারফরম্যান্সের গ্রাফটা ঊর্ধ্বমুখী রাখাই এখন আমার একমাত্র ব্রত। এক্ষেত্রে বাংলা ট্রিবিউন আমাকে ছায়ার মতো আগলে রাখবে, একজন পাঠক ও সংবাদকর্মী হিসেবে এই প্রত্যাশাটা সবসময়ই থাকবে।