এদিকে, রংপুরে বিএনপির নতুন এই কমিটি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টি বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুরই জানা নেই। জেলা ও মহানগর বিএনপির অনেক শীর্ষ নেতা বলছেন, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। অন্যদিকে, নতুন কমিটিতে আগের কমিটির জেলা সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা ও মহানগর সাধারণ সম্পাদক শামু বাদ পড়েছেন বলেও জানা গেছে।
কমিটি ঘোষণার কথা স্বীকার করে মহানগর বিএনপির নবনির্বাচিত সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাকে ফোন করে জেলা ও মহানগর কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়েছে।’ নতুন কমিটিতে আগের কমিটির শীর্ষ দুই নেতা বাদ পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আগের জেলা কমিটির সভাপতি এমদাদুল হক ভরসার সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানানম নতুন কমিটির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তাকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার কোনও কারণও তিনি বলতে পারেননি।
মোবাইল ফোন যোগাযোগ করলে রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘আমি কমিটি সম্পর্কে কিছু জানি না। আমার সঙ্গে এ বিষয়ে কারও কোনও কথাও হয়নি।’
নতুন কমিটিতে এমদাদুল হক ভরসা ও শামসুজ্জামান শামুর স্থান না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনেকেই। তারা বলছেন, দলের জন্য অবদান রাখা এসব নেতাদের কমিটিতে স্থান না দেওয়াটা দুঃখজনক। নবগঠিত কমিটিতে আগের কমিটির বিদ্রোহী অংশের কয়েকজন নেতা ভালো পদ পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করছেন তারা। তাদের আশঙ্কা, এতে রংপুর বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও বাড়বে।
বেশ কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত ২০ বছরে কখনই সম্মেলন করে রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটি দেওয়া হয়নি। বরাবরই ঢাকা থেকে কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। এতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল তৈরি হয়। দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের একাংশ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন।
/টিআর/