মৌলভীবাজারে গোগালিছড়া নদীর বাঁধ ভেঙে ছয় গ্রাম প্লাবিত

মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় চার দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গোগালিছড়া নদীর বাঁধ ভেঙে ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে এসব এলাকার তিন হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন এবং ১৫০ একর জমির আউশ ধান তলিয়ে গেছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র প্রভাবে গত মঙ্গলবার সকাল থেকে বৃষ্টি শুরু হয়ে শুক্রবার পর্যন্ত তা চলে। এতে পাহাড়ি ঢলে বৃহস্পতিবার বিকালে গোগালিছড়া নদীর বাঁধের জয়চন্ডীর গাজীপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার কাছে একটি, কুলাউড়া রেঞ্জ কার্যালয়ের সামনে একটি এবং গাজীপুর জামে মসজিদের কাছে ভাঙন দেখা দেয়। এতে ভাঙনকবলিত স্থান দিয়ে পানি ঢুকে গাজীপুরসহ আশপাশের রাজাপুর, পুরন্দরপুর, খুটাগাঁও ও মীরবক্সপুর এবং কুলাউড়া পৌর শহরের লস্করপুর গ্রামের কিছু জায়গা তলিয়ে যায়।

এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে মনুনদীর বাঁধে ভাঙন দেখা দিলে এলাকার শতাধিক লোকজন রাতেই বাঁধ মেরামত করে ভাঙন ঠেকান।

কুলাউড়া গাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা সোহাগ মিয়া বলেন, ‘চার দিন আগে ১০ কিয়ার জমিনে চারা লাগাইছিলাম। অখন সব জমি পানির নিচে।’ একই কথা জানান বকুল সূত্রধর ও রাজীব হাসান।

জানা গেছে, হাসান এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে গাজীপুর মাদ্রাসার কাছে বাঁধের ওপর দিয়ে ৭৫০ মিটার কাঁচা রাস্তা পাকা করার কাজ পায়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এই কাজ করাচ্ছে। বালু ফেলার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চার মাস আগে রাস্তা কেটে গর্ত করে রাখে। তার অভিযোগ, দ্রুত বালু না ফেলায় পাহাড়ি ঢলে বাঁধ দুর্বল হয়ে ভেঙে গেছে। তবে এ বিষয়ে হাসান এন্টারপ্রাইজের মালিক মুহিবুর রহমান জয়নাল দাবি করেন, বালুর সংকটের কারণে তিনি রাস্তায় কাজ করাতে পারেননি।

কুলাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী মুহা. ইসতিয়াক হাসান জানান, বালুর সংকটের বিষয়টি ঠিকাদার তাকেও জানিয়েছিলেন। তারপরও বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে তিনি জানান।

জয়চন্ডী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য রমজান আলী জানান, বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় তার এলাকার তিন হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছে।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মো. গোলাম রাব্বী জানান, ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসনের কাছে বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ত্রাণ চাওয়া হয়েছে।

/এনআই/এমএ/