‘ট্রেডমার্ক না থাকায় বোঝা যাচ্ছে না অস্ত্রগুলো কোন দেশের’

নারায়ণগঞ্জে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনার বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলামের সংবাদ সম্মেলন

নারায়ণগঞ্জে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ কোথা থেকে এসেছে তার উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম। তবে ট্রেডমার্ক না থাকায় বোঝা যাচ্ছে না অস্ত্রগুলো কোথা থেকে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (৩ জুন) বিকালে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, ‘উদ্ধার হওয়া অস্ত্র কোন দেশ থেকে এসেছে, এটা বের করতে পারলে নিশ্চিত হওয়া যাবে, কে বা কারা ও কি উদ্দেশ্যে এগুলো নিয়ে এসেছে । তাই উৎস বের করার আগ পর্যন্ত জড়িতদের ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।’  

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দুটি দেশে এসব অস্ত্র তৈরি হয়। দেশ দুটির একটি হলো বাংলাদেশ, আর অন্যটি হলো চীন। কিন্তু, বাংলাদেশ অডিনেন্স ফ্যাক্টরি ও চীন থেকে বাংলাদেশ পুলিশ যে অস্ত্র কিনে সেগুলো যাচাই বাছাই করে দেখেছি এই দুই দেশের অস্ত্রের সঙ্গে উদ্ধারকৃত অস্ত্রের কোনও সামঞ্জস্য নেই। আরও দুই একটি দেশের অস্ত্রের সঙ্গে এগুলোর মিল রয়েছে কিনা তাও যাচাই করে দেখবো। ট্রেডমার্ক না থাকায় উদ্ধার হওয়া অস্ত্র কোন দেশে তৈরি হয়েছে, তাও বলা যাচ্ছে না। তবে সেটি জানার চেষ্টা চলছে। তবে এটা খুবই দুরুহ কাজ । কারণ, যারা এ ধরনের অস্ত্র বানায় তার অস্ত্রের গায়ে কোনও ট্রেড মার্ক দেয় না। যে কারণে এগুলো কোন দেশের অস্ত্র তা খুঁজে বের করা খুবই কঠিন কাজ। এজন্য এসব অস্ত্র সেনাবাহিনী ও সিআইডির বিশেষ টিম দিয়ে পরীক্ষা করে দেখা হবে।’ 

তিনি জানান,  অস্ত্রগুলোর তৈরিকারী দেশের নাম যদি জানতে পারি, তাহলে কিভাবে আমাদের দেশে এলো, কারা কোন উদ্দেশ্যে কোথায় নিয়ে যাচ্ছিল এগুলোর বিষয়ে আস্তে আস্তে এগুনো যাবে।

নারায়ণগঞ্জে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আটকরা

তিনি আরও জানান, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এবং অস্ত্র নিজেদের দখলে রাখার অভিযোগে চার জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলো- শরিফ খান, শাহীন, রাসেল ও শান্ত। এদের বয়স ৩০-৩৫ বছরের মধ্যে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে। তবে মূল অস্ত্রের চালানের সঙ্গে গ্রেফতারকৃতদের কোনও সংশ্লিষ্টতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে মাছ ধরতে গিয়ে  যে অস্ত্রগুলো পেয়েছে সেই অস্ত্রগুলো তারা বিক্রি বা অপরাধ সংগঠিত করার উদ্দেশ্যে মাটিতে লুকিয়ে রেখেছিলো বলে ধারণা করছি।

ডিআইজি বলেন, হৃদয় নামের ২০ থেকে ২২ বছর বয়সী এক যুবক ডোবায় মাছ ধরতে গেলে একটি বস্তা তার পায়ে লাগে। সে বস্তাটি পারে নিয়ে এসে ভেতরে অস্ত্র পায়। পরে তা শরীফকে জানালে শরীফ আরও কয়েকজনকে ডেকে এনে ১০টি অস্ত্র নিয়ে যায়। শরিফদের কাছ থেকে তিনটি অস্ত্র পুলিশ উদ্ধার করেছে। বাকি ৫-৬টি অস্ত্র এখনও উদ্ধার করা যায়নি। তবে ওই অস্ত্রের সন্ধান চলছে।’

না.গঞ্জে এম সিক্সটিন রাইফেল-রকেট লঞ্চারসহ বিপুল গোলাবারুদ উদ্ধার

তিনি বলেন, ‘হৃদয় এখন বাংলাদেশে নেই। সে এখন কাতারে অবস্থান করছে বলে জানতে পেরেছি আমরা। তবে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মূল চালানের সঙ্গে হৃদয় বা শরিফদের কোনও সম্পৃক্ততা খুঁজে পাওয়া যায়নি।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বলেন, জঙ্গিদের বা পাশের দেশগুলোর কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সহায়তার জন্য কিছু দেশ থেকে অস্ত্রশস্ত্র আসে। এটার জন্যই বলছি, অস্ত্র কোন দেশ থেকে এসেছে এটা জানতে পারলে  সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারবো, কোন কাজের জন্য এই অস্ত্র  এসেছে। তবে জঙ্গিদের অস্ত্র এটা মনে হচ্ছে না। জঙ্গিরা আরও ছোট অস্ত্র ব্যবহার করে। তবে চট্টগ্রামে উদ্ধার করা দশ ট্রাক অস্ত্রের সঙ্গে এর যোগসাজশ থাকতে পারে।  এক প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি বলেন, দিয়া বাড়ির বিষয়টি মেট্রোপলিটন এলাকার ভেতরে পড়েছে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেশে জঙ্গি সংগঠনগুলোর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সঙ্গে এই অস্ত্রের কোনও মিল নেই। তবে চটগ্রামে আটক হওয়া ১০ ট্রাক অস্ত্রের সঙ্গে এর মিল রয়েছে।’

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন- অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য অতিরিক্ত ডিআইজি তৌফিকুর রহমান, সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি মাহবুব চৌধুরী, পিবিআই’র এসপি আবুল কালাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মইনুল হক, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন।

/এমএ/টিএন/