খালেদা জিয়ার নির্দেশে বগুড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁনের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের শোকজ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ছবি জালিয়াতি করে জিয়াউর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকী অনুষ্ঠানের পরিবর্তে আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার অভিযোগে তাকে শোকজ করা হয়েছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি ও এর সহযোগী অঙ্গ-সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, ১ জুন চাঁন বগুড়া পৌরসভার মেয়র ও খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবুর রহমান আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগ দেন। সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন ছাড়াও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। চাঁন ও মমতাজ পাশাপাশি চেয়ারে ছিলেন। মঞ্চে অনেকে থাকলেও শুধু এ দুইজনের ছবি ধারণ করা হয়। পরে ছবিটি কেন্দ্রে পাঠিয়ে বলা হয়, চাঁন জিয়ার মৃত্যু বার্ষিকীর অনুষ্ঠান ছেড়ে আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে ছিলেন। এতে পরদিন কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ই-মেইল বার্তায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁনের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ তোলেন এবং কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানাতে ২৪ ঘন্টা সময় বেঁধে দেন।
নেতাকর্মীরা আরও জানান, গত শনিবার ঢাকায় ইফতার মাহফিলে খালেদা জিয়ার সঙ্গে জয়নাল আবেদীন চাঁন ও তার সমর্থকদের কথা হয়। ওই সময় আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হবার মিথ্যা ছবির বিষয়টি খালেদা জিয়াকে জানালে তিনি রাতে গুলশান অফিসে যেতে বলেন। এতে চাঁন ছাড়া পৌর মেয়র মাহবুব, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আজগর হেনা প্রমুখ নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সব খুলে বলেন। চেয়ারপারসন এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন এবং চাঁনের শোকজের চিঠি প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন।
জয়নাল আবেদীন চাঁনকে পাঠানো ওই চিঠিতে রিজভী বলেন, তদন্তে আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার বিষয়টি অসত্য ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হওয়ায় শোকজ প্রত্যাহার করা হলো। চাঁন চিঠি পাবার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, প্রতিপক্ষের পাঠানো একটি ভুয়া ছবি যাচাই না করে চাঁনকে শোকজ করায় তার সমর্থকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা এ ষড়যন্ত্রের হোতাকে চিহ্নিত করে অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে খালেদা জিয়ার প্রতি অনুরোধ জানান।
/এমএ/