চলতি মৌসুমে পর্যাপ্ত সার, উন্নত মানের বীজ ও সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় ফরিদপুরে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার চাষিরা বোরো ধান ঘরে তুলতে শুরু করেছেন। চলছে ধান মাড়াইয়ের কাজ। এবার উপজেলাগুলোর বোরো ধানের ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ২১ হাজার ৯১৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়। ফলন হয়েছে ৯৪ হাজার ৭২০ মেট্রিক টন, যা গত বারের তুলনায় হেক্টর প্রতি শূন্য দশমিক চার মেট্রিক টন বেশি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে আরও জানা গেছে, এবছর সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ১২ হাজার ১৭১ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে বি আর ২৯, তারপর ৬ হাজার ৬১৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে বি আর ২৮। ১ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে পানি সহনশীল কালি বোরো, চৈতা বোরো, লাল বোরো, জাগলী বোরোসহ অন্যান্য স্থানীয় জাতের ধান আবাদ হয়েছে।
ধানের বাম্পার ফলন হওয়া এবং বাজারমূল্য ভালো পাওয়ায় এবার অনেক খুশি বলে জানিয়েছেন ভাংগা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের সাউতিকান্দা গ্রামের কৃষক নয়ন শেখ। তিনি এবছর ৩ বিঘা জমিতে বি আর ২৯ জাতের ধান চাষ করেছেন। ফলন হয়েছে প্রায় ৪০ মণ, যা গত বারের চেয়ে প্রায় ১০ মণ বেশি।
একই এলাকার সরোয়ার হোসেন নামে অন্য এক কৃষক বলেন, ‘গতবার যে ধান মণ প্রতি বিক্রি করেছেন ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, এবার তার দাম ৯৫০ থেকে ১০০০ টাকা। এতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে বিঘা প্রতি প্রায় ২৫ হাজার টাকা লাভ থাকবে।’
এ ব্যাপারে ভাংগা উপজেলা কৃষি অফিসার মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘ভাংগায় এবার ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে, যেখানে বি আর ২৯ জাতের ধানই বেশি। কোনও কোনও জায়গায় হেক্টর প্রতি সাত মেট্রিক টন পযর্ন্ত ফলন হয়েছে, যা আশাতীত। ধানের বীজ বপন করার আগে শোধন করে বীজতলা তৈরি করা হয়েছিল, যার ফলে কোনও রোগ-বালাই দেখা যায়নি। এছাড়া উপযুক্ত আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত সারের ব্যবস্থা থাকায় ধানে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলী শেখ বলেন, ‘এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সব ক'টি উপজেলায় ধানের উৎপাদন বেশি হয়েছে। আর ফলন বেশি হওয়ায় ধান-চাল সংগৃহও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াবে বলেই মনে করছি।’
/এমএ/