গত বছরের ৭ ডিসেম্বর রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও ৮ ডিসেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১১ ডিসেম্বর দুই শাখায় এক বছর মেয়াদী আংশিক কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এতে গোলাম কিবরিয়াকে সভাপতি ও ফয়সাল আহমেদ রুনুকে সাধারণ সম্পাদক করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ১৩ সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়।
অন্যদিকে, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নাইমুর রহমান নিবিড়কে সভাপতি ও চৌধুরী মাহফুজার রহমান তপুকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের উদ্দেশ্যে চলতি বছরের ২০ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আগ্রহী কর্মীদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করে রাবি শাখা ছাত্রলীগ। জীবনবৃত্তান্তের সঙ্গে ৫০০ টাকা করে চাঁদাও তোলা হয়। পরে জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহের সময় বাড়িয়ে ৬ মার্চ করা হয়।
অন্যদিকে, আংশিক কমিটি ঘোষণার তিন মাস পর গত ১১ এপ্রিল থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত রুয়েট ছাত্রলীগ কর্মীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করা হয়। পরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার সময় বাড়িয়ে ২৭ এপ্রিল করা হয়।
কিন্তু সেসব জীবনবৃত্তান্ত যাচাইবাছাই শেষে এখনও কেন্দ্র থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন নিতে পারেননি দুই শাখার বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এর মধ্যে ছয় মাস অতিক্রম হয়ে গেছে। ফলে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে।
কর্মীদের অভিযোগ, এক বছর মেয়াদী কমিটির ছয় মাস শেষ, কিন্তু এখনও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে যেসব কর্মী ক্যাম্পাসে ত্যাগ স্বীকার করে কাজ করে আসছেন, তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অনেক ত্যাগী কর্মীরা পড়াশোনা শেষ হওয়ায় শূন্য হাতেই ক্যাম্পাস ছাড়ছেন।
রুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুর রহমান নিবিড় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কোনও অছাত্র, শিবির বা ছাত্রদলের কেউ যাতে দলে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য যাচাইবাছাই করতে একটু সময় লেগেছে। আমাদের কাজ প্রায় শেষ। এখন কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলে শিগগিরই কমিটি ঘোষণা করার চেষ্টা করা হবে।’
রাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়াও একই কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘শিগগিরই কমিটি ঘোষণা করা হবে। ঈদের আগেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
/এনআই/এমএ/